7
Table of Contents
বাংলাস্ফিয়ার: ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাশাপাশি লড়াই করতে করতে কয়েক সপ্তাহ কেটে গেছে। এই সময়টায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে বেশ একটা বোঝাপড়ার সুর ছিল। কিন্তু এখন সেই সুরে ছন্দপতন ঘটছে। ট্রাম্প যখন ইরানের সাথে শান্তিচুক্তির পথে হাঁটছেন, তখন দুই নেতার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের মধ্যে যে গভীর ফারাক রয়েছে, তা একে একে বেরিয়ে আসছে। আর এই ফারাকই এখন মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন একটা টানাপোড়েনের জন্ম দিচ্ছে।
যুদ্ধবিরতির পরেও থামছে না লড়াই
গত সপ্তাহে ইরানের সাথে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র একদিন পরেই লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নতুন করে উত্তাপ ছড়াল। ইসরায়েল লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবোল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রাখল, যা যুদ্ধবিরতির শর্তকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল। ইরান হুমকি দিল যে এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে তারা পুরো যুদ্ধবিরতি চুক্তিই বাতিল করে দেবে।
এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প সরাসরি জানিয়ে দিলেন, তিনি নেতানিয়াহুকে লেবাননে সামরিক তৎপরতা কমিয়ে আনতে বলেছেন। এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি বিবির সাথে কথা বলেছি। সে লেবাননে বিষয়টা ঠান্ডা করবে।” ‘বিবি’ হলো নেতানিয়াহুর ডাকনাম।
বুধবারের সেই ফোনালাপে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ইরানের সাথে তাঁর চলমান কূটনীতি যেন কোনোভাবে বিপন্ন না হয়। নেতানিয়াহু সরাসরি না বললেও বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যে ঘোষণা করলেন যে ইসরায়েল লেবাননের সাথে সরাসরি আলোচনায় বসবে — মূলত হেজবোল্লাহকে নিরস্ত্র করার বিষয়ে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এ বিষয়ে আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে একটি বৈঠক আয়োজন করা হবে।
কিন্তু এই ঘোষণায় ইরান কতটা সন্তুষ্ট হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। কারণ একদিকে আলোচনার কথা বলতে বলতেই নেতানিয়াহু ঘোষণা করলেন, “আমাদের সেনাবাহিনী হেজবোল্লাহকে পূর্ণ শক্তিতে আঘাত করে যাচ্ছে।” ইসরায়েলি কর্মকর্তারা অভিযোগ করছেন, হেজবোল্লাহ সীমান্ত পেরিয়ে রকেট হামলা করে আগেই যুদ্ধবিরতি ভেঙেছে।
এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প সরাসরি জানিয়ে দিলেন, তিনি নেতানিয়াহুকে লেবাননে সামরিক তৎপরতা কমিয়ে আনতে বলেছেন। এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি বিবির সাথে কথা বলেছি। সে লেবাননে বিষয়টা ঠান্ডা করবে।” ‘বিবি’ হলো নেতানিয়াহুর ডাকনাম।
বুধবারের সেই ফোনালাপে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ইরানের সাথে তাঁর চলমান কূটনীতি যেন কোনোভাবে বিপন্ন না হয়। নেতানিয়াহু সরাসরি না বললেও বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যে ঘোষণা করলেন যে ইসরায়েল লেবাননের সাথে সরাসরি আলোচনায় বসবে — মূলত হেজবোল্লাহকে নিরস্ত্র করার বিষয়ে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এ বিষয়ে আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে একটি বৈঠক আয়োজন করা হবে।
কিন্তু এই ঘোষণায় ইরান কতটা সন্তুষ্ট হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। কারণ একদিকে আলোচনার কথা বলতে বলতেই নেতানিয়াহু ঘোষণা করলেন, “আমাদের সেনাবাহিনী হেজবোল্লাহকে পূর্ণ শক্তিতে আঘাত করে যাচ্ছে।” ইসরায়েলি কর্মকর্তারা অভিযোগ করছেন, হেজবোল্লাহ সীমান্ত পেরিয়ে রকেট হামলা করে আগেই যুদ্ধবিরতি ভেঙেছে।
দুই নেতার দুই লক্ষ্য
এই বিরোধের মূলে রয়েছে দুই নেতার মধ্যে একটি মৌলিক কৌশলগত ফারাক।
নেতানিয়াহুর কাছে হেজবোল্লাহর অস্তিত্ব ইসরায়েলের জন্য অস্তিত্বের হুমকি। ১৯৮২ সালে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবানন দখল করলে তার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সহায়তায় হেজবোল্লাহর জন্ম হয়। তারপর থেকে চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই গোষ্ঠীটি ইসরায়েলের কাছে সবচেয়ে বিপজ্জনক শত্রুদের একটি। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর নেতানিয়াহু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে এই শত্রুকে এখনই চিরতরে দুর্বল করে দিতে হবে। শুধু হেজবোল্লাহ নয়, ইরানের ক্লেরিক্যাল শাসনব্যবস্থাও তাঁর চোখে এখন দুর্বল এবং তিনি চান সেই চাপ অব্যাহত রাখতে।
ট্রাম্পের হিসাব সম্পূর্ণ আলাদা। তাঁর কাছে লেবানন বা হেজবোল্লাহ নিয়ে মাথা ঘামানোর আগে প্রধান উদ্বেগ হলো হরমুজ প্রণালী। এই সংকীর্ণ সামুদ্রিক পথ দিয়ে বিশ্বের তেল সরবরাহের একটা বড় অংশ চলাচল করে। যুদ্ধের জেরে ইরান এই প্রণালীকে সামরিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করলে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে গেছে। এটা ট্রাম্পের ঘরোয়া রাজনীতিতে বড় ধাক্কা দিচ্ছে — তাঁর সমর্থকরা বিরক্ত, আর ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ চাপে পড়ছে। তাই ট্রাম্প চান দ্রুত একটা চুক্তি করে এই যুদ্ধের ইতি টানতে।
মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ও মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো নাতান স্যাকস বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেছেন, “ট্রাম্পের কাছে লেবানন সর্বোচ্চ তৃতীয় অগ্রাধিকার।” অর্থাৎ নেতানিয়াহু যেটাকে সবচেয়ে জরুরি মনে করছেন, ট্রাম্প সেটাকে গৌণ বিষয় হিসেবে দেখছেন।
নেতানিয়াহুর কাছে হেজবোল্লাহর অস্তিত্ব ইসরায়েলের জন্য অস্তিত্বের হুমকি। ১৯৮২ সালে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবানন দখল করলে তার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সহায়তায় হেজবোল্লাহর জন্ম হয়। তারপর থেকে চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই গোষ্ঠীটি ইসরায়েলের কাছে সবচেয়ে বিপজ্জনক শত্রুদের একটি। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর নেতানিয়াহু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে এই শত্রুকে এখনই চিরতরে দুর্বল করে দিতে হবে। শুধু হেজবোল্লাহ নয়, ইরানের ক্লেরিক্যাল শাসনব্যবস্থাও তাঁর চোখে এখন দুর্বল এবং তিনি চান সেই চাপ অব্যাহত রাখতে।
ট্রাম্পের হিসাব সম্পূর্ণ আলাদা। তাঁর কাছে লেবানন বা হেজবোল্লাহ নিয়ে মাথা ঘামানোর আগে প্রধান উদ্বেগ হলো হরমুজ প্রণালী। এই সংকীর্ণ সামুদ্রিক পথ দিয়ে বিশ্বের তেল সরবরাহের একটা বড় অংশ চলাচল করে। যুদ্ধের জেরে ইরান এই প্রণালীকে সামরিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করলে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে গেছে। এটা ট্রাম্পের ঘরোয়া রাজনীতিতে বড় ধাক্কা দিচ্ছে — তাঁর সমর্থকরা বিরক্ত, আর ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ চাপে পড়ছে। তাই ট্রাম্প চান দ্রুত একটা চুক্তি করে এই যুদ্ধের ইতি টানতে।
মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ও মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো নাতান স্যাকস বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেছেন, “ট্রাম্পের কাছে লেবানন সর্বোচ্চ তৃতীয় অগ্রাধিকার।” অর্থাৎ নেতানিয়াহু যেটাকে সবচেয়ে জরুরি মনে করছেন, ট্রাম্প সেটাকে গৌণ বিষয় হিসেবে দেখছেন।
কূটনৈতিক তৎপরতা
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভান্স এই সপ্তাহান্তে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যাচ্ছেন। সেখানে ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনায় বসবেন তিনি। ইরান মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেতে মরিয়া — সেই দাবি নিয়েই এই বৈঠক।
পাকিস্তান এই পুরো প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, “তাদের মিত্রদের সহ,” লেবাননসহ সর্বত্র তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে।
কিন্তু ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই দাবি করল, লেবানন এই চুক্তির আওতায় ছিল না। ভান্স একে “একটি যুক্তিসংগত ভুল বোঝাবুঝি” বলে উড়িয়ে দিলেন। তবে এই ‘ভুল বোঝাবুঝি’ কীভাবে হলো, তা এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে।
পাকিস্তান এই পুরো প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, “তাদের মিত্রদের সহ,” লেবাননসহ সর্বত্র তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে।
কিন্তু ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই দাবি করল, লেবানন এই চুক্তির আওতায় ছিল না। ভান্স একে “একটি যুক্তিসংগত ভুল বোঝাবুঝি” বলে উড়িয়ে দিলেন। তবে এই ‘ভুল বোঝাবুঝি’ কীভাবে হলো, তা এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে।
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাই নেতানিয়াহুর লাগাম
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নেতানিয়াহু আসলে একটি কঠিন সমীকরণের মুখে পড়েছেন। একদিকে তাঁর কৌশলগত লক্ষ্য, অন্যদিকে ট্রাম্পের সাথে সম্পর্ক রক্ষার বাধ্যবাধকতা।
নাতান স্যাকস বলছেন, নেতানিয়াহু মার্কিন চাপ থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিতে চাইবেন, কিন্তু তাঁর সামরিক লক্ষ্য ছাড়তে রাজি নন। তবে ট্রাম্পের ধৈর্যচ্যুতি ঘটানোর একটা সীমা আছে, যা নেতানিয়াহু সহজে পার করবেন না। কারণটা রাজনৈতিক।
ট্রাম্প ইসরায়েলে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তাঁর সাথে ঘনিষ্ঠতাই এই মুহূর্তে নেতানিয়াহুর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সম্পদ, বিশেষত যখন ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচন আসন্ন। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সাথে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন — ইসরায়েলে বাইডেনের তেমন জনপ্রিয়তা ছিল না, তাই তাঁর চাপ উপেক্ষা করলে নেতানিয়াহুকে ঘরোয়া রাজনীতিতে কোনো মাশুল দিতে হয়নি। কিন্তু ট্রাম্পের ক্ষেত্রে হিসাবটা উল্টো।
“ট্রাম্পের চিন্তাই তাঁর মাথায় সবচেয়ে বড়,” স্যাকস বলেন নেতানিয়াহু সম্পর্কে। এমনকি নেতানিয়াহুর ডানপন্থী কট্টর সমর্থকদের কাছেও ‘ট্রাম্প চেয়েছেন তাই করেছি’ — এই যুক্তিটা গ্রহণযোগ্য। স্যাকসের ভাষায়, “‘ট্রাম্প আমাকে এটা করতে বলেছেন’ — এটা তাঁর ডানপন্থী সমর্থকদের কাছে বৈধ অজুহাত।”
নাতান স্যাকস বলছেন, নেতানিয়াহু মার্কিন চাপ থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিতে চাইবেন, কিন্তু তাঁর সামরিক লক্ষ্য ছাড়তে রাজি নন। তবে ট্রাম্পের ধৈর্যচ্যুতি ঘটানোর একটা সীমা আছে, যা নেতানিয়াহু সহজে পার করবেন না। কারণটা রাজনৈতিক।
ট্রাম্প ইসরায়েলে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তাঁর সাথে ঘনিষ্ঠতাই এই মুহূর্তে নেতানিয়াহুর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সম্পদ, বিশেষত যখন ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচন আসন্ন। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সাথে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন — ইসরায়েলে বাইডেনের তেমন জনপ্রিয়তা ছিল না, তাই তাঁর চাপ উপেক্ষা করলে নেতানিয়াহুকে ঘরোয়া রাজনীতিতে কোনো মাশুল দিতে হয়নি। কিন্তু ট্রাম্পের ক্ষেত্রে হিসাবটা উল্টো।
“ট্রাম্পের চিন্তাই তাঁর মাথায় সবচেয়ে বড়,” স্যাকস বলেন নেতানিয়াহু সম্পর্কে। এমনকি নেতানিয়াহুর ডানপন্থী কট্টর সমর্থকদের কাছেও ‘ট্রাম্প চেয়েছেন তাই করেছি’ — এই যুক্তিটা গ্রহণযোগ্য। স্যাকসের ভাষায়, “‘ট্রাম্প আমাকে এটা করতে বলেছেন’ — এটা তাঁর ডানপন্থী সমর্থকদের কাছে বৈধ অজুহাত।”
নেতানিয়াহুর গোপন কৌশল
তবে নেতানিয়াহু চুপ করে বসে থাকবেন না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তিনি ট্রাম্পের সাথে সরাসরি বিরোধে না গিয়ে ভেতরে ভেতরে কাজ করে যাবেন। ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার জন্য ট্রাম্পকে রাজি করাতে তিনি জোরালো ব্যক্তিগত যুক্তি দেবেন। প্রয়োজনে নতুন করে যুদ্ধে ফেরার পক্ষেও সওয়াল করবেন।
এমনকি যদি ট্রাম্প এমন কোনো চুক্তি করেন যা নেতানিয়াহুর কাছে বেশি ছাড়দেওয়া মনে হয়, তাহলেও তিনি হয়তো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখাবেন না। বরং অপেক্ষা করবেন। পরিস্থিতি স্তিমিত হলে ইরানের কোনো নতুন অপকর্মের গোয়েন্দা তথ্য বা অন্য কোনো যুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের কাছে ফিরে যাবেন — নতুন পদক্ষেপের দরজা খুলতে।
এমনকি যদি ট্রাম্প এমন কোনো চুক্তি করেন যা নেতানিয়াহুর কাছে বেশি ছাড়দেওয়া মনে হয়, তাহলেও তিনি হয়তো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখাবেন না। বরং অপেক্ষা করবেন। পরিস্থিতি স্তিমিত হলে ইরানের কোনো নতুন অপকর্মের গোয়েন্দা তথ্য বা অন্য কোনো যুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের কাছে ফিরে যাবেন — নতুন পদক্ষেপের দরজা খুলতে।
ইরান চুক্তিতে কী হবে ইসরায়েলের স্বার্থ?
আগামী সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প যখন ইরানের সাথে চুক্তির রূপরেখা তৈরি করবেন, তখন আরও মতবিরোধ সামনে আসতে পারে।
ইরানের মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং হেজবোল্লাহ, হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ইরানের মদদ — এগুলো ইসরায়েলের জন্য সরাসরি হুমকি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই বিষয়গুলো ততটা জরুরি নয়। ট্রাম্পের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো হরমুজ প্রণালীতে মুক্ত নৌচলাচল।
ইরান বলছে, তারা প্রণালী খুলে দেবে যদি যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। কিন্তু নেতানিয়াহু বরাবর দাবি করে আসছেন ইরানের ওপর “সর্বোচ্চ চাপ” বজায় রাখতে হবে — যাতে হামাস-হেজবোল্লাহর অর্থ সংস্থান বন্ধ হয়, এবং সম্ভব হলে ক্লেরিক্যাল শাসন নিজেই ধসে পড়ে।
যুদ্ধবিরতির পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নেতানিয়াহু ট্রাম্পের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানালেন, কিন্তু পরিষ্কার করে দিলেন যে ইরানের হিসাব এখনো চুকেনি। তাঁর কথায়, “ইরানে আমাদের আরও লক্ষ্য পূরণ করতে হবে। সেটা হবে — হয় চুক্তির মাধ্যমে, নয়তো নতুন লড়াইয়ের মাধ্যমে।”
এই একটি বাক্যেই লুকিয়ে আছে মধ্যপ্রাচ্যের আসন্ন রাজনীতির পুরো সারসংক্ষেপ। ট্রাম্প শান্তির পথে হাঁটতে চাইছেন, নেতানিয়াহু যুদ্ধের দরজা খোলা রাখতে চাইছেন। দুই মিত্রের এই বিপরীতমুখী টানই এখন সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে।
ইরানের মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং হেজবোল্লাহ, হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ইরানের মদদ — এগুলো ইসরায়েলের জন্য সরাসরি হুমকি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই বিষয়গুলো ততটা জরুরি নয়। ট্রাম্পের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো হরমুজ প্রণালীতে মুক্ত নৌচলাচল।
ইরান বলছে, তারা প্রণালী খুলে দেবে যদি যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। কিন্তু নেতানিয়াহু বরাবর দাবি করে আসছেন ইরানের ওপর “সর্বোচ্চ চাপ” বজায় রাখতে হবে — যাতে হামাস-হেজবোল্লাহর অর্থ সংস্থান বন্ধ হয়, এবং সম্ভব হলে ক্লেরিক্যাল শাসন নিজেই ধসে পড়ে।
যুদ্ধবিরতির পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নেতানিয়াহু ট্রাম্পের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানালেন, কিন্তু পরিষ্কার করে দিলেন যে ইরানের হিসাব এখনো চুকেনি। তাঁর কথায়, “ইরানে আমাদের আরও লক্ষ্য পূরণ করতে হবে। সেটা হবে — হয় চুক্তির মাধ্যমে, নয়তো নতুন লড়াইয়ের মাধ্যমে।”
এই একটি বাক্যেই লুকিয়ে আছে মধ্যপ্রাচ্যের আসন্ন রাজনীতির পুরো সারসংক্ষেপ। ট্রাম্প শান্তির পথে হাঁটতে চাইছেন, নেতানিয়াহু যুদ্ধের দরজা খোলা রাখতে চাইছেন। দুই মিত্রের এই বিপরীতমুখী টানই এখন সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে।