Home খবর ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’ নিয়ে ময়দানে আইআরজিসি

‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’ নিয়ে ময়দানে আইআরজিসি

0 comments 9 views
A+A-
Reset

বাংলাস্ফিয়ার: মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এক বিপজ্জনক মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে প্রতিটি নতুন আঘাত যেন এক বৃহত্তর সংঘাতের পূর্বাভাস। ২০২৬ সালের মার্চের শেষ নাগাদ ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) ঘোষণা করেছে যে, তারা ইজরায়েল এবং ওই অঞ্চলে অবস্থিত আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে তীব্র প্রতিশোধমূলক হামলা অব্যাহত রাখবে। আইআরজিসি-র মতে, বর্তমানে তাদের ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর ৭৮তম পর্যায় চলমান। এই ঘোষণার পরপরই বাহরাইন জুড়ে এয়ার রেইড সাইরেন বেজে ওঠে এবং প্রশাসন নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।

সামরিক উত্তেজনা ও ‘সবচেয়ে তীব্র’ অভিযান

আইআরজিসি জানিয়েছে, অঞ্চলজুড়ে বিভিন্ন স্থান লক্ষ্য করে তাদের ‘সবচেয়ে তীব্র আক্রমণাত্মক অভিযান’ শুরু হয়েছে। এই হামলাগুলোকে বিচ্ছিন্ন কোনো সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। এটি এক বৃহত্তর কৌশলগত উত্তেজনার অংশ, যেখানে ইরান, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব এখন আরও খোলামেলা রূপ নিচ্ছে। ইরানের ভূখণ্ডে যৌথ হামলার পাল্টায় এই অপারেশন চালানো হচ্ছে বলে তেহরানের দাবি।

লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ ও আধুনিক অস্ত্রের ব্যবহার

এবারের অভিযানে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের ক্ষেত্রে ইরান অত্যন্ত আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়েছে। আইআরজিসি-র দাবি অনুযায়ী:

  • ইজরায়েল: হাইফা এবং পশ্চিম জেরুজালেমের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে নিশানা করা হয়েছে।

  • আমেরিকা: ইরাক, বাহরাইন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যার মধ্যে আল ধাফরা বিমান ঘাঁটিও রয়েছে।

  • রণকৌশল: এই হামলায় ব্যালিস্টিক ও অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র (যেমন ফাত্তাহ-১) ব্যবহার করা হচ্ছে। আইআরজিসি-র দাবি, তাদের এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আঞ্চলিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পরাভূত করতে সক্ষম। তারা সম্প্রতি তাদের ভূগর্ভস্থ বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিও প্রদর্শন করেছে।

ট্রাম্পের দাবি ও রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ

একইসঙ্গে এই পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছিলেন যে, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে। কিন্তু ইরানের পক্ষ থেকে সেই দাবি সরাসরি নাকচ করা হয়েছে। আইআরজিসি এবং অন্যান্য ইরানি কর্মকর্তারা এই মন্তব্যকে “ভ্রান্ত” এবং “বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য আসলে আন্তর্জাতিক মহলকে বিভ্রান্ত করার একটি কৌশল, যাতে বাস্তব পরিস্থিতির গুরুতরতা আড়াল করা যায়।

এই বিরোধপূর্ণ বক্তব্যের মধ্যে বড় প্রশ্ন উঠছে—আসলে কি কোনো কূটনৈতিক পথ খোলা আছে, নাকি সব পক্ষই যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে? সামরিক হামলা এবং কূটনৈতিক অবিশ্বাসের এই আবহে শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে পড়ছে।

বাহরাইনের সাইরেন ও ভূ-রাজনৈতিক খেলা

বাহরাইনে সাইরেন বাজার ঘটনাটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ বাহরাইন কেবল একটি ছোট উপসাগরীয় দেশ নয়; এটি আমেরিকার নৌবাহিনীর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটির আবাসস্থল। ফলে সেখানে কোনো নিরাপত্তা হুমকি সরাসরি আমেরিকার সামরিক উপস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ জানায়।

এর পেছনে রয়েছে এক বিশাল ভূ-রাজনৈতিক খেলা। ইরান তার আঞ্চলিক প্রভাব বজায় রাখতে চাইছে, অন্যদিকে আমেরিকা ও ইজরায়েল সেই প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সচেষ্ট। ফলে সংঘাতটি কেবল তিনটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি এক বহুমাত্রিক ক্ষমতার লড়াই।

মানুষের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক প্রভাব

এই উত্তেজনার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। যখন সাইরেন বেজে ওঠে এবং মানুষকে আশ্রয়ে যেতে বলা হয়, তখন কূটনীতি বা ভূ-রাজনীতির তত্ত্ব তাদের কাছে খুব একটা অর্থ বহন করে না। তাদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—তাদের পরিবার নিরাপদ কি না।

পাশাপাশি, এই উত্তেজনার বৈশ্বিক প্রভাবও উপেক্ষা করা যায় না। মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম কেন্দ্র। এই অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে বাধ্য। বিশেষ করে ভারতের মতো দেশ, যারা বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তারা সরাসরি অর্থনৈতিক চাপে পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি এক গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ইঙ্গিত করছে। একদিকে সামরিক পদক্ষেপ বাড়ছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক বিশ্বাস কমছে। এই দুইয়ের সংমিশ্রণ সাধারণত একটি বড় সংঘাতের পূর্বাভাস দেয়। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে প্রতিটি নতুন বিস্ফোরণ যেন এক অশুভ সংকেত দিয়ে যাচ্ছে।

Author

You may also like

Leave a Comment

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles