বাংলাস্ফিয়ার: শিল্পপতি অনিল আম্বানি এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন ADAG গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে তদন্তের গতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়েছে, তদন্ত হতে হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং বিশ্বাসযোগ্য। এই ধরনের হাই-প্রোফাইল মামলায় তদন্তকারী সংস্থাগুলির ‘অনীহা’ বা ‘গড়িমসি’ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
মামলার শুনানিতে বিচারপতিরা লক্ষ্য করেছেন যে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI) এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) যেভাবে এই মামলাটি নিয়ে এগিয়েছে, তাতে শৃঙ্খলার অভাব ছিল। বিচারপতি সূর্যকান্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান, তদন্তে আর কোনো ঢিলেমি চলবে না। তাঁর মতে, প্রভাবশালী তকমা দেখে তদন্ত থমকে থাকতে পারে না, কারণ এর সঙ্গে জনমানসের আস্থা জড়িয়ে রয়েছে।
আদালতের এই নির্দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তদন্তের পরিধি। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে:
-
তদন্ত শুধু কর্পোরেট স্তরে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
-
যদি কোনো সরকারি আধিকারিক, ব্যাংক কর্মী বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কেউ এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত থাকে, তবে তাঁদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখতে হবে।
-
সিবিআই এবং ইডি-কে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করতে হবে যাতে কোনো তথ্য আড়ালে না থাকে।
আদালতের এই কঠোর অবস্থানের পর সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আশ্বাস দিয়েছেন যে, এই বার্তা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির শীর্ষ কর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। আদালত সরাসরি তদন্তে হস্তক্ষেপ না করলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলিকে নিজেদের কাজ নিষ্ঠার সঙ্গে করার নির্দেশ দিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের মাধ্যমে একটি বড় বার্তা দেওয়া হলো—আইনের চোখে সবাই সমান। দেশের আর্থিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা বড় কর্পোরেট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তদন্তে কোনো আপস করা চলবে না। এখন দেখার বিষয়, সিবিআই ও ইডি আদালতের এই কড়া বার্তার পর কতটা সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ নেয়।