Table of Contents
বাংলাস্ফিয়ার: বহু প্রতীক্ষিত মহিলা সংরক্ষণ আইন বা ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ নিয়ে বড়সড় চমক দিতে চলেছে কেন্দ্র। সূত্রের খবর, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত এই আইন কার্যকর করতে এক বিশেষ কৌশল নিচ্ছে মোদী সরকার। নতুন জনগণনার (Census) জন্য অপেক্ষা না করে, ২০১১ সালের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতেই আসন পুনর্বিন্যাস বা ‘ডিলিমিটেশন’ (Delimitation) প্রক্রিয়া সেরে ফেলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
সংসদে বাড়ছে সদস্য সংখ্যা: অঙ্কটা ঠিক কী?
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই আইন বাস্তবায়নের জন্য সংসদের আসন সংখ্যা আমূল বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে। লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে সংসদের মোট আসন সংখ্যা বর্তমানে যা রয়েছে, তা বাড়িয়ে ৮১৬ করার লক্ষ্য নেওয়া হতে পারে।
-
মহিলাদের জন্য বরাদ্দ: এই ৮১৬টি আসনের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ২৭৩টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
-
এর ফলে ভারতীয় সংসদীয় ইতিহাসে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব একলাফে অনেকটা বেড়ে যাবে।
কেন হঠাৎ ২০১১ সালের ডেটার ওপর নির্ভরতা?
মহিলা সংরক্ষণ আইন পাস হলেও তার বাস্তবায়নের পথে মূল কাঁটা ছিল দু’টি শর্ত—নতুন জনগণনা এবং তার পরবর্তী ডিলিমিটেশন। করোনা পরিস্থিতির কারণে ২০২১ সালের জনগণনা অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে গিয়েছে। ফলে আইন কার্যকর হওয়াও বিশ বাঁও জলে আটকে ছিল।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অচলাবস্থা কাটাতেই ‘শর্টকাট’ পথ খুঁজছে কেন্দ্র। সরকারের যুক্তি, মহিলাদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন আরও পিছিয়ে দেওয়া অনুচিত। তাই নতুন সেনসাস রিপোর্ট হাতে আসার অপেক্ষা না করে ২০১১ সালের পুরনো তথ্যের ভিত্তিতেই কাজ এগিয়ে নিতে চাইছে দিল্লি।
বিরোধী শিবিরে তৎপরতা ও সংবিধান সংশোধন
এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করতে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন, যার জন্য সংসদের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাধ্যতামূলক। ফলে বিরোধী দলগুলির সমর্থন ছাড়া এটি সম্ভব নয়। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে:
-
কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির মতো প্রধান বিরোধী দলগুলির সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে।
-
এনডিএ (NDA) জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গেও দফায় দফায় বৈঠক করছে বিজেপি নেতৃত্ব।
-
খুব শীঘ্রই সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে প্রস্তাবের খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করা হতে পারে।
আশঙ্কা ও বিতর্কের মেঘ
মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর এই ইতিবাচক উদ্যোগের মাঝেও দানা বাঁধছে একাধিক বিতর্ক:
১. পুরনো তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা: এক দশকের বেশি সময় আগের (২০১১) তথ্য দিয়ে ২০২৬ সালের আসন বিন্যাস করা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা। গত ১০ বছরে পরিযান ও নগরায়নের ফলে জনসংখ্যার বিন্যাসে আমূল বদল এসেছে।
২. আঞ্চলিক ভারসাম্য: আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি। তাদের আশঙ্কা, জনসংখ্যার আধিক্যের কারণে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলির আসন সংখ্যা অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে জাতীয় রাজনীতিতে দক্ষিণী রাজ্যগুলির গুরুত্ব কমে যেতে পারে।
উপসংহার
মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে কেন্দ্রের এই সক্রিয়তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, সরকার একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছে। তবে ২০১১-র সেনসাস ডেটা ব্যবহার করে এই জটিল সমীকরণ মেলানো কতটা সম্ভব হবে, কিংবা এর নেপথ্যে কোনো সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক অঙ্ক কাজ করছে কি না, তা নিয়েই এখন উত্তাল জাতীয় রাজনীতি।