নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এই সাপ্লিমেন্টারি তালিকা মূলত নতুন সংযোজন, সংশোধন এবং স্থানান্তরের ভিত্তিতে তৈরি। অর্থাৎ, যাঁরা নতুন করে ভোটার হিসেবে নাম তুলেছেন, যাঁদের তথ্য সংশোধন হয়েছে বা যাঁরা এক কেন্দ্র থেকে অন্য কেন্দ্রে গিয়েছেন, তাঁদের তথ্য এই তালিকায় প্রতিফলিত হয়েছে। কিন্তু তালিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, বিয়োজন বা ডিলিশনের নির্দিষ্ট সংখ্যা, স্পষ্ট করে জানানো হয়নি।

ফলে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এই অস্পষ্টতা ইচ্ছাকৃত। তাঁদের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে বড় সংখ্যায় নাম বাদ পড়ে থাকলে তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। অন্যদিকে শাসকদলও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। তাদের বক্তব্য, পূর্ণাঙ্গ তথ্য সামনে না এলে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়।

প্রশাসনিক দিক থেকে দেখলে, এই ধরনের SIR প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশন নির্দিষ্ট সময় অন্তর ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখে—কারও মৃত্যু, স্থান পরিবর্তন, বা ডুপ্লিকেট নামের মতো বিষয়গুলি ঠিক করার জন্য। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং তথ্যের পূর্ণাঙ্গ প্রকাশই জনবিশ্বাসের মূল ভিত্তি। আর সেখানেই এবার ঘাটতি থেকে গেল বলেই মনে করছেন অনেকে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, শুধুমাত্র সংযোজন বা সংশোধনের তথ্য দিলে চলবে না। কতজনের নাম বাদ গেল, কেন বাদ গেল—এই তথ্যও সমানভাবে জরুরি। কারণ ভোটার তালিকা শুধু একটি প্রশাসনিক নথি নয়, এটি গণতান্ত্রিক অধিকারের সরাসরি প্রতিফলন।

সব মিলিয়ে, সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ হলেও, তা স্পষ্টতার বদলে আরও প্রশ্ন তৈরি করল। এখন নজর থাকবে—নির্বাচন কমিশন কি এই ধোঁয়াশা কাটিয়ে সম্পূর্ণ তথ্য সামনে আনে, নাকি ভোটের আগেই এই বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়।