বাংলাস্ফিয়ার: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক পথ খোলা রাখল ইরান। দেশটি জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাপানের বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে নিরাপদে চলাচলের অনুমতি দিতে তারা প্রস্তুত।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই মর্মে জাপানের সঙ্গে চলমান আলোচনার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জাপানি জাহাজের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় নিরাপদ নৌ-পথের সম্ভাবনা নিয়ে টোকিও ও তেহরানের মধ্যে একাধিক স্তরে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। দুই দেশের মূল লক্ষ্য—সংঘাতের আবহেও জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা ও নৌ-পরিবহন সচল রাখা।
তবে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই অনুমতি নিঃশর্ত নয়। তাদের নির্ধারিত নিয়ম ও শর্ত মেনে চললেই কেবল জাহাজ চলাচলের ছাড়পত্র মিলবে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালী?
পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের একটি বিশাল অংশ যাতায়াত করে। জাপানের মতো সম্পূর্ণ জ্বালানি-আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এই পথ কার্যত জীবনরেখা। ইজরায়েল-ইরান উত্তেজনার জেরে ইতিমধ্যে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছুঁয়েছে, যা জাপানের অর্থনীতি ও শিল্পখাতে সরাসরি চাপ তৈরি করছে।
ইরানের কৌশল কী?
এই প্রেক্ষাপটে ইরানের এই সদিচ্ছা নিছক কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক পদক্ষেপ। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপের মুখে নিজেদের ‘নমনীয়’ হিসেবে উপস্থাপন করা এবং একই সঙ্গে জাপানের মতো অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত রাখা—এই দ্বৈত উদ্দেশ্য ইরানের কৌশলে স্পষ্ট।
উল্লেখ্য, অতীতে হরমুজ প্রণালী বারবার আন্তর্জাতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে এসেছে। মার্কিন-ইরান দ্বন্দ্ব, ট্যাংকার আটক এবং ড্রোন হামলার ঘটনা এই অঞ্চলকে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ নৌ-পথে পরিণত করেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবেই দেখছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা, যা শুধু জাপান নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্যও স্বস্তির বার্তা বহন করছে।