Home খবর বিশ্ব এখন ট্রাম্পের শপিং কার্টে

বিশ্ব এখন ট্রাম্পের শপিং কার্টে

0 comments 3 views
A+A-
Reset

বাংলাস্ফিয়ার: ট্রাম্প আবারও একটি দেশ দখল করতে চান — এই খবর এখন আর আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ চাঞ্চল্য তৈরি করছে না। বিষয়টি এখন অনেকটাই নিয়মিত আবহাওয়া-বুলেটিনের মতো পরিচিত হয়ে উঠেছে: “আজ আকাশ আংশিক মেঘলা, এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন একটি দেশ দখলের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।”

তবে এইবার তিনি ঠিক কোন দেশের দিকে নজর দিয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। একাংশের ধারণা, এটি গ্রিনল্যান্ড-পরিকল্পনারই ধারাবাহিকতা। অন্যরা মনে করছেন লক্ষ্য হতে পারে কানাডা। আবার কেউ কেউ সন্দেহ প্রকাশ করছেন যে শেষ পর্যন্ত তিনি হয়তো “বিশ্ব” নামের পুরো প্যাকেজটাই অধিগ্রহণ করতে আগ্রহী — ফ্রি ডেলিভারিসহ।

ট্রাম্পের যুক্তি বরাবরের মতোই সরল: “ওই দেশটা ভালো জায়গায় আছে, একটু ফাঁকা মনে হচ্ছে, আর আমি মনে করি এটা আমার হওয়া উচিত।” পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বক্তব্য যেন রিয়েল এস্টেটের কোনো তালিকা পর্যালোচনার কথা মনে করিয়ে দেয় — “সামুদ্রিক দৃশ্য, খনিজ সম্পদ, আর একটু রাজনৈতিক অস্থিরতা — পারফেক্ট!”

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: ক্রোধ থেকে ক্লান্তি

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের ঘোষণার সমস্যা হলো, পৃথিবীটা আর উনিশ শতকের মানচিত্র নয়, যেখানে পেন্সিলে একটি লাইন টেনে বলা যায়, “এই অংশটি এখন থেকে আমার।” কিন্তু ট্রাম্পের কল্পনায় পৃথিবী এখনও যেন সেই পুরনো বোর্ড গেম — মনোপলি। পার্থক্য শুধু এটুকু যে এখানে ‘জেল’ কার্ডের বদলে আছে টুইট, আর ‘গো টু জেল’ মানে প্রেস কনফারেন্স।

আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়াও ক্রমশ বদলে গেছে। এক সময় ট্রাম্পের এই ধরনের ঘোষণায় তীব্র রাগ ও প্রতিবাদ দেখা যেত। এখন তার বদলে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘশ্বাস। এক ইউরোপীয় কূটনীতিক মন্তব্য করেছেন, “আমরা এখন আর চিন্তিত নই। আমরা কেবল কফি খেতে খেতে দেখি — আজ কোন দেশটার পালা।”

দেশের ভেতরেও অসন্তোষ

আমেরিকার অভ্যন্তরেও পরিস্থিতি খুব আলাদা নয়। তরুণ প্রজন্মের একাংশ সরাসরি বলছে, “গ্র্যান্ডপা, দয়া করে বসুন। পৃথিবীটা আপনার পারিবারিক সম্পত্তি নয়।” অনেকে ট্রাম্পকে সেই পারিবারিক অনুষ্ঠানের আত্মীয়ের সঙ্গে তুলনা করছেন, যিনি হঠাৎ ঘোষণা করেন, “এই বাড়িটা আমি কিনে নিচ্ছি, কারণ এটা আমার স্টাইলের।”

একই ছাঁচে বক্তৃতা

ট্রাম্পের বক্তৃতাগুলোও ক্রমশ একটি নির্দিষ্ট ছাঁচ অনুসরণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “ওই দেশটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কেউ এটাকে ঠিকমতো চালাতে পারছে না, আমি পারব। বিশ্বাস করুন, আমি দারুণ কাজ করব।” এই ‘দারুণ কাজ’-এর সুনির্দিষ্ট রূপরেখা কেউ জানে না। তবে পূর্ব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, এর মধ্যে থাকবে কিছু বিশাল দেয়াল, কয়েকটি সোনালি নামফলক, আর অসংখ্য “বিশ্বাস করুন।”

অপ্রত্যাশিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: ভূগোলে নতুন আগ্রহ

তবে ট্রাম্পের এই ধারাবাহিক ঘোষণাগুলোর একটি অপ্রত্যাশিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে — বিশ্বের মানচিত্র এখন অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষ আবার স্কুলের ভূগোল বই খুলে দেখছেন, “এই দেশটা আসলে কোথায়?” কারণ আগামীকাল যদি ট্রাম্প সেটার ওপর দাবি জানান, অন্তত জানা তো দরকার।

রাজনৈতিক থিয়েটার অব্যাহত

বিশ্লেষকরা পুরো ঘটনাপ্রবাহকে এক ধরনের রাজনৈতিক থিয়েটার হিসেবে বর্ণনা করছেন — যেখানে নাটক চলছে, দর্শক ক্লান্ত, কিন্তু পর্দা নামছে না।

এদিকে ট্রাম্প মঞ্চের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে বলছেন, “পরের দেশটা আরও বড় হবে। আপনি দেখবেন।”

বিশ্বের দর্শকরা ততক্ষণে চুপচাপ বসে ভাবছেন: “হ্যাঁ, আমরা দেখছি — আর একটু বিশ্রামও চাই, গ্র্যান্ডপা।”

Author

You may also like

Leave a Comment

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles