Table of Contents
বাংলাস্ফিয়ার: উচ্চতাভীতি নেই এমন ভ্রমণপিপাসুদের জন্য প্যারিসের বিশ্ববিখ্যাত আইফেল টাওয়ার খুলে দিয়েছে এক নতুন দিগন্ত। টাওয়ারের প্রথম তলায়, মাটি থেকে প্রায় ২০০ ফুট উঁচুতে তৈরি করা হয়েছে একটি বিশেষ সাসপেনশন ব্রিজ বা ঝুলন্ত পথ, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভার্টিগো অফ দ্য টাওয়ার’। একে বর্তমানে ফ্রান্সের ‘সর্বোচ্চ নগর সেতু’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।
লোহার কাঠামো আর নীল জালের রোমাঞ্চ
আইফেল টাওয়ারের দক্ষিণ এবং উত্তর স্তম্ভের মাঝখানে ১৩১ ফুট দৈর্ঘ্যের এই ব্রিজটি তৈরি করা হয়েছে। নীল রঙের বিশেষ ধরনের গিঁট দেওয়া জালের দুটি স্তর দিয়ে তৈরি এই পথে হাঁটলে নিচে তাকালে দেখা যাবে বুক কাঁপানো শূন্যতা, আর মাথার ওপরে থাকবে টাওয়ারের বিশালাকার লোহার কাঠামো। প্রায় ২৫,০০০টি জালের ঘর (meshes) দিয়ে তৈরি এই আকর্ষণটি পর্যটকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা বয়ে আনবে।
নিরাপত্তা এবং নির্মাণ কৌশল
ব্রিজটি সম্পূর্ণ ঘেরা এবং সমান্তরাল ও পার্শ্বীয় তারের (cables) মাধ্যমে মজবুতভাবে আটকে রাখা হয়েছে। এর স্থায়িত্ব নিয়ে আইফেল টাওয়ারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে জানানো হয়েছে যে, এটি প্রতি বর্গমিটারে ৩০,০০০ কেজি ওজন সহ্য করতে সক্ষম। ফরাসি কোম্পানি ‘আর্বোরিকর্ড’ (Arboricorde) এটি নির্মাণ করেছে, যারা সাধারণত গাছে চড়ার নেট কোর্স বা হাই রোপ তৈরিতে বিশেষজ্ঞ। মাছ ধরার জালের সেলাই পদ্ধতি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই ব্রিজের জাল বোনা হয়েছে।
দর্শনার্থীদের জন্য নিয়মাবলী
এই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিতে হলে দর্শনার্থীদের কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে:
-
টিকিট ও সময়: আইফেল টাওয়ারের টিকিট থাকলেই এটি বিনামূল্যে উপভোগ করা যাবে। তবে প্রথম তলায় গিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নাম নিবন্ধন করতে হবে।
-
সময়সূচী: প্রতিদিন সকাল ১০:৩০ থেকে সন্ধ্যা ৬:৩০ পর্যন্ত এটি খোলা থাকবে। সপ্তাহান্তে রাত ৮টা পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে।
-
সীমাবদ্ধতা: একবারে সর্বোচ্চ ৪ জন ব্রিজটিতে উঠতে পারবেন। দৌড়ানো, লাফানো, হাই হিল জুতো পরা বা খাবার নিয়ে ওঠা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
-
সতর্কতা: ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের সাথে অবশ্যই অভিভাবক থাকতে হবে। যাদের অতিরিক্ত উচ্চতাভীতি (vertigo) আছে, তাদের জন্য এই ব্রিজটি না ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আইফেল টাওয়ারের ক্রমবর্ধমান আকর্ষণ
এটিই প্রথম নয়, এর আগেও আইফেল টাওয়ারে বিভিন্ন রোমাঞ্চকর আয়োজন করা হয়েছে। ২০১৭ এবং ২০১৯ সালে টাওয়ারের দ্বিতীয় তলা থেকে জিপ-লাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যেখানে ১০০ কিমি বেগে দর্শনার্থীরা শাঁ শাঁ করে নিচে নেমে আসতেন। এছাড়া শীতকালে টাওয়ারের প্রথম তলায় স্কেটিং রিঙ্কও বসানো হয়।
আগামী ৯ মার্চ পর্যন্ত এই ‘ভার্টিগো অফ দ্য টাওয়ার’ আকর্ষণটি চালু থাকবে। আপনি কি তৈরি এই আকাশপথে হাঁটার জন্য?