বাংলাস্ফিয়ার: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান মার্কিন–ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ওমানের রাজধানী মাসকটে এক সহিংস হামলায় দুই ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং অন্তত দশজন আহত হয়েছেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MEA) আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটল যখন অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে এবং সংঘাত ইতিমধ্যে দুই সপ্তাহ অতিক্রম করেছে। ফলে বিদেশে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নিহত দুই ভারতীয়র পরিচয় যাচাইয়ের কাজ চলছে এবং তাঁদের পরিবারকে ইতিমধ্যে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর পাঁচজনকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তবে আরও পাঁচজন এখনও হাসপাতালে ভর্তি আছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভর্তি থাকা রোগীদের অবস্থা স্থিতিশীল।
হামলার প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এটি একটি আকস্মিক সহিংস আক্রমণ, যাতে বহু শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। ওমানি কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে এবং ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ঘটনার সময়কালটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকা, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। জাহাজ চলাচল নিয়ে উত্তেজনা এবং বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি হয়েছে। কূটনৈতিক মহলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই বৃহত্তর অস্থিরতার মধ্যে বিদেশি শ্রমিক ও প্রবাসী সম্প্রদায় বিশেষভাবে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।
ওমানে বর্তমানে সাত থেকে আট লক্ষ ভারতীয় নাগরিক বসবাস ও কাজ করেন, যাঁদের অধিকাংশই নির্মাণ, পরিষেবা এবং বাণিজ্যিক খাতে কর্মরত। এই হামলা স্বাভাবিকভাবেই প্রবাসী সমাজে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। মাসকটে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস আহতদের চিকিৎসা তদারকি করছে এবং নিহতদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে এ অঞ্চলে কর্মরত বিপুলসংখ্যক ভারতীয় শ্রমিকের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বাস্তবতা তৈরি হতে পারে। এটি নিছক মানবিক সংকট নয় , কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে পাঠানো রেমিট্যান্স ভারতের অর্থনীতির একটি বড় উৎস।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিদেশি শ্রমিকদের আবাসন, কর্মস্থল এবং জনবহুল এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। ভারত সরকারও পরিস্থিতির উপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে এবং প্রয়োজন হলে নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মাসকটের এই হামলাকে কূটনৈতিক মহলে একটি সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি আবারও স্মরণ করিয়ে দিল যে আন্তর্জাতিক সংঘাতের আঘাত অনেক সময় সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে থাকা সাধারণ মানুষকেও স্পর্শ করে, বিশেষত সেইসব প্রবাসীদের, যারা জীবিকার সন্ধানে দূরদেশে কাজ করছেন।