Home খবর ১২ মার্চ থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার টিকিটে নতুন ফুয়েল সারচার্জ

১২ মার্চ থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার টিকিটে নতুন ফুয়েল সারচার্জ

0 comments 10 views
A+A-
Reset

বাংলাস্ফিয়ার: আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের বিমান চলাচল শিল্পে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই এয়ার ইন্ডিয়া এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস ঘোষণা করেছে যে, ১২ মার্চ ২০২৬ থেকে তাদের ফ্লাইটের টিকিটে নতুন করে জ্বালানি সারচার্জ আরোপ করা হবে। বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশীয় রুটে প্রতিটি টিকিটের উপর অতিরিক্ত ৩৯৯ টাকা করে ফুয়েল সারচার্জ নেওয়া হবে।

এয়ার ইন্ডিয়া গোষ্ঠীর এই সিদ্ধান্ত মূলত নেওয়া হয়েছে ক্রমবর্ধমান অপারেশনাল খরচ সামাল দেওয়ার জন্য। বিশেষ করে বিমান জ্বালানি—অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF)—এর দামের দ্রুত বৃদ্ধিই এই পদক্ষেপের প্রধান কারণ বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিমান জ্বালানির দামে। ফলে বিমান সংস্থাগুলির পরিচালন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

নতুন এই সারচার্জ কেবল দেশীয় উড়ানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। দক্ষিণ এশিয়ার সার্ক (SAARC) দেশগুলির গন্তব্যে পরিচালিত ফ্লাইটগুলির ক্ষেত্রেও প্রতিটি টিকিটে একই পরিমাণ সারচার্জ প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ ভারত থেকে নেপাল, শ্রীলঙ্কা বা অন্যান্য সার্ক দেশের গন্তব্যে যাত্রা করলেও যাত্রীদের অতিরিক্ত এই অর্থ দিতে হবে।

অন্যদিকে পশ্চিম এশিয়ার গন্তব্যগুলির ক্ষেত্রে সারচার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে মার্কিন ডলারে। ওই অঞ্চলের ফ্লাইটের প্রতিটি টিকিটে অতিরিক্ত ১০ ডলার করে নেওয়া হবে। আফ্রিকার বিভিন্ন রুটে এই সারচার্জ আরও বেশি—রুটভেদে ৩০ ডলার থেকে ৯০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির ক্ষেত্রেও বাড়তি খরচের বোঝা পড়বে যাত্রীদের উপর; সেখানে ২০ থেকে ৬০ ডলার পর্যন্ত সারচার্জ আরোপ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সিঙ্গাপুরের সঙ্গে সংযুক্ত ফ্লাইটগুলিতেও এখন থেকে এই ফুয়েল সারচার্জ প্রযোজ্য হবে।

এয়ার ইন্ডিয়া গোষ্ঠী জানিয়েছে, জ্বালানি খরচের চাপ মোকাবিলা করার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে সারচার্জের পরিমাণ পর্যালোচনা করা হতে পারে। আন্তর্জাতিক বিমান শিল্পে জ্বালানির দাম সবসময়ই অন্যতম প্রধান ব্যয়, যা মোট পরিচালন খরচের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে। ফলে জ্বালানি দামের সামান্য ওঠানামাও বিমান সংস্থাগুলির আর্থিক ভারসাম্যের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিমান ভাড়ার উপর চাপ আরও বাড়তে পারে। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যা শুধু বিমান শিল্পই নয়, বিশ্ব অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করছে।

যাত্রীদের জন্য এর অর্থ হলো, আগামী দিনে বিমান ভ্রমণের পরিকল্পনা করার সময় টিকিটের মূল ভাড়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত সারচার্জের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। এয়ার ইন্ডিয়ার এই পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, জ্বালানির দামের ওঠানামা এখন বিমান শিল্পের নীতিনির্ধারণ এবং মূল্য কাঠামোর উপর ক্রমশ বড় ভূমিকা নিতে শুরু করেছে।

Author

You may also like

Leave a Comment

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles