বাংলাস্ফিয়ার: হুরুন রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রকাশিত এ বছরের হুরুন গ্লোবাল রিচ-এর তথ্য বলছে ভারতে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা বছর বছর বেড়েই চলেছে। গত বছরের তুলনায় ২৪ জন বেড়ে এখন দেশে মোট বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০৮। এই বৃদ্ধি ইঙ্গিত করছে যে ভারতে দ্রুত সম্পদ সৃষ্টি হচ্ছে এবং অর্থনৈতিক গতি এখনও শক্তিশালী। এই নতুন নামগুলি সংযুক্ত হওয়ার ফলে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যার বিচারে বিশ্বে ভারতের অবস্থান এখন তৃতীয়। এক নম্বরে আমেরিকা, দ্বিতীয় স্থানে চিন, তারপরেই ভারত।
গত বছরে ভারতে মোট ৫৭ জন নতুন বিলিয়নিয়ার তৈরি হয়েছে যা বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলির মধ্যে আমেরিকা চীনের বাইরে সর্বাধিক। যদিও একই সময়ে ২৭ জন এই তালিকা থেকে ছিটকে গিয়েছেন।
ভারতের বিলিয়নিয়ারদের মোট সম্পদের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এক বছরে তা প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে পৌঁছেছে ১১২.৬ ট্রিলিয়নে। অর্থাৎ প্রায় ১১২ লক্ষ কোটি টাকার বেশি। এই তালিকায় থাকা ১৯৯ জনের সম্পদ বেড়েছে, আর প্রায় ১০৯ জনের সম্পদ হয় কমেছে, নয়তো অপরিবর্তিত রয়েছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হোল ভারতের বিলিয়নিয়ারদের মধ্যে প্রায় সাত শতাংশ নারী।
ভারতের বিলিয়নিয়ার শ্রেণি এখন আর কেবল ঐতিহ্যগত কয়েকটি শিল্পক্ষেত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং নতুন নতুন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও সম্পদ সৃষ্টি হচ্ছে, যা দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ভিত্তি যে বিস্তৃত হচ্ছে তারই প্রমাণ।
ভারত এবং এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন মুকেশ আম্বানি। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ₹9.8 ট্রিলিয়ন, যা গত এক বছরে প্রায় ৯ শতাংশ বেড়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন গৌতম আদানি, যদিও তাঁর সম্পদ গত বছরে ১৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ₹7.5 ট্রিলিয়নে।তৃতীয় স্থানে রয়েছেন রোশনি নাদার মালহোত্রা যার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ₹3.2 ট্রিলিয়ন। তিনি ভারতের শীর্ষ দশ ধনীর তালিকায় একমাত্র নারী।
নতুন বিলিয়নিয়ার তৈরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে। এই ক্ষেত্র থেকেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে ৫৩ জন নতুন বিলিয়নিয়ার। এর পরে রয়েছে শিল্প উৎপাদন, যেখান থেকে এসেছে ৩৬ জন নতুন নাম। কনজিউমার সেক্টরে ৩১ জন নতুন বিলিয়নিয়ার উঠে এসেছেন।। তবে নতুন নাম তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও সম্পদের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ক্ষেত্রে। মাত্র আটজন বিলিয়নিয়ার এই ক্ষেত্র থেকে মোট ১৮.৬ ট্রিলিয়ন সম্পদের মালিক, যা ভারতের মোট বিলিয়নিয়ার সম্পদের প্রায় ১৬ শতাংশ।
গত বছরে সম্পদ বৃদ্ধির দিক থেকে সবচেয়ে বড় উত্থান ঘটেছে সাইরাস পুনাওয়ালার। পুনে-ভিত্তিক সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি এক বছরে প্রায় ০.৯১ ট্রিলিয়ন সম্পদ বাড়িয়েছেন। তিনিই ভারতের সবচেয়ে বড় ওয়েলথ গেইনার।
শহরভিত্তিক হিসাবে ভারতের বিলিয়নিয়ারদের প্রধান কেন্দ্র এখনও মুম্বই। একা এই শহরে রয়েছে ৯৫ জন বিলিয়নিয়ার। তবে মুম্বই এখন আর এশিয়ার বিলিয়নিয়ার রাজধানী নয়; সেই স্থান দখল করেছে চীনের শেনঝেন, যেখানে বিলিয়নারের সংখ্যা রয়েছে ১৩৩ জন । তবুও গত বছরে মুম্বইয়ে ১৫ জন নতুন বিলিয়নিয়ার তৈরি হয়েছে, যা নিউ ইয়র্কের ১৪ এবং লন্ডনের ৯ জন নতুন সংযোজনের তুলনায় বেশি। বিশ্বজুড়ে শহরভিত্তিক তালিকায় নিউ ইয়র্কে রয়েছে সবচেয়ে বেশি, মোট ১৪৬ জন বিলিয়নিয়ার। এরপর রয়েছে সাংহাইয়ে ১২০ জন, বেইজিংয়ে ১০৭ জন এবং লন্ডনে ১০২ জন।
ভারতের বিলিয়নিয়ারদের গড় বয়স তুলনামূলকভাবে বেশি—প্রায় ৬৭ বছর, যেখানে বিশ্বব্যাপী গড় বয়স প্রায় ৬৫ বছর। দেশের সবচেয়ে কম বয়সী বিলিয়নিয়ার হলেন রিতেশ আগরওয়াল।তাঁর বয়স মাত্র ৩২ বছর এবং তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ₹14,440 কোটি।
এছাড়া ভারতের ২৩ জন মহিলা বিলিয়নিয়ারের মিলিত সম্পদের পরিমান এখন প্রায় ৯.৮ ট্রিলিয়ন। এই তথ্য থেকে পরিষ্কার ধীরে ধীরে মহিলা উদ্যোক্তাদের উপস্থিতিও ভারতের সম্পদ সৃষ্টির পরিসরে বাড়ছে। সামগ্রিকভাবে হুরুন-এর এই রিপোর্ট বলছে, ভারতে বিলিয়নিয়ারদের সংখ্যা বৃদ্ধি শুধু সম্পদ বৃদ্ধিরই ইঙ্গিত নয় এটি ক্রমবর্ধমান কর্মকাণ্ড এবং বিশ্বব্যাপী ভারতীয় ব্যবসায়ীদের উচ্চাকাঙ্ক্ষারও প্রতিফলন।