না বলতে শিখুন

0 comments 1 views
A+A-
Reset
বাংলাস্ফিয়ার: শান্তভাবে সীমা টানলেই সম্মান বাড়ে: মনোবিজ্ঞানীরা কী বলছেন? সম্মান পাওয়া মানে অনেকের কাছে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করা, খুব ক্যারিশম্যাটিক হওয়া, বা বড় কিছু অর্জন করা। কিন্তু মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, সম্মান পাওয়ার সবচেয়ে দ্রুত উপায় আসলে অনেক সহজ—আর সেটা হলো শান্তভাবে নিজের সীমা (boundary) স্পষ্ট করে বলা, কোনো অতিরিক্ত ব্যাখ্যা বা অযথা ক্ষমা চাওয়া ছাড়া। এই আচরণটাকে বলা হয় “non-defensive calm boundary holding”—মানে নিজের সীমা শান্তভাবে জানানো, কিন্তু সেটা নিয়ে নিজেকে ডিফেন্ড না করা বা জাস্টিফাই না করা। শান্ত থাকলে মানুষ আপনাকে সিরিয়াসলি নেয় অনেক বছর ধরে গবেষণায় দেখা গেছে, যখন কেউ শান্তভাবে নিজের boundary সেট করে, তখন ঝগড়া বা বিরোধ কম হয়। বরং উল্টোটা ঘটে। ইউনিভার্সিটি অব্ ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলি-এর গবেষণায় দেখা গেছে, যখন কেউ শান্তভাবে বাউন্ডারি সেট করে, তখন দুজনেরই স্ট্রেস হরমোন কমে যায়। মানে, আপনার শান্ত থাকা অন্য মানুষটারনার্ভাস সিস্টেমকেও শান্ত করে দেয়। তখন সে স্বাভাবিকভাবেই আপনার composure-এর সাথে match করার চেষ্টা করে। সহজ করে বললে: আপনি শান্ত থাকলে, মানুষ আপনাকে চ্যালেঞ্জ করার মোটিভেশন কম পায়। বেশি এক্সপ্লেইন করলে উল্টো সম্মান কমে আমরা অনেকেই বাউন্ডারি সেট করার পর সাথে সাথে এক্সপ্লেইন করা শুরু করি। যেমন: “সরি, আজ পারছি না, কারণ আমি খুব ব্যস্ত …” এতে শোনায় যেন আপনি নিজের ডিসিশন নিয়ে আনশিওর। কিন্তু যদি বলেন: “আজ আমি অ্যাভেলেবল না।” এটা অনেক বেশি কনফিডেন্ট শোনায়। ছোট, পরিষ্কার কথা মানুষকে বোঝায়—আপনি নিজের সিদ্ধান্তে নিশ্চিত।
এফেক্টিভ বাউন্ডারির  তিনটি মূল দিক মনোবিজ্ঞানীরা বলেন : ১. কথা ছোট রাখুন অতিরিক্ত এক্সপ্লেইন করার দরকার নেই। যেমন: “আমি এটা এখন করতে পারছি না।” ২.টোন নিউট্রল রাখুন অতিরিক্ত ইমোশনাল বা ডিফেনসিভ হবেন না। ৩. নেগোসিয়েশন করবেন না। যেমন, “আজ পারছি না… তবে যদি খুব দরকার হয়…” এটা আপনার বাউন্ডারিকেই দুর্বল করে দেয়। তার বদলে বলুন: “আজ পারছি না। কাল সাহায্য করতে পারি।” বাউন্ডারি সেট করা কঠিন মনে হয় কারণ অনেকেই ছোটবেলা থেকে শিখে এসেছে— সবাইকে খুশি রাখতে হবে। না বললে মানুষ কষ্ট পাবে। কেউ আপসেট হলে সেটা আপনার দোষ। তাই বাউন্ডারি সেট করলে গিল্ট বা অ্যাংজাইটি হয়। কিন্তু থেরাপিষ্ট নেডরা গ্লোবার তাওযাব বলেন, সবাই আপনার বাউন্ডারির পছন্দ করবে না—এটা মেনে নেওয়াই বাউন্ডারির  সবচেয়ে কঠিন কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রথমে ছোট ছোট জায়গায় প্র্যাকটিস করতে পারেন। যেমন অপ্রয়োজনীয় ইনভাইটেশন রিজেক্ট করা। মানুষ আপনাকে আপনার নিজের আচরণ দেখে রেসপেক্ট করে, মানুষ সাধারণত দেখে—আপনি নিজেকে কীভাবে ট্রিট করেন। আপনি যদি শান্তভাবে নিজের বাউন্ডারি মেন্টেন করেন, সেটা একটা সিগন্যাল দেয়: “আমাকে এভাবেই ট্রিট করতে হবে।” সময়ের সাথে সাথে মানুষ সেটা অ্যাক্সেপ্ট করে। এমনকি তারা বাউন্ডারি পছন্দ না করলেও, তারা আপনারকন্সিসটেন্সিকে রেসপেক্ট করে। এটা একটাস্কিল প্র্যাকটিস করলে শেখা যায়। বাউন্ডারি সেট করা কোনো জন্মগত ট্যালেন্ট না। এটা একটা স্কিল। আপনি সিম্পল কথাগুলো দিয়ে শুরু করতে পারেন: “আমি অ্যাভেলেবল না।” “এটা আমার জন্য কাজ করবে না।” “আমি এটা কমিট করতে পারছি না।” শান্তভাবে বলুন। অ্যাপলজি ছাড়া। শেষ পর্যন্ত, সম্মান পাওয়ার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি হলো— নিজেকে সম্মান করা। আপনি যখন পরিষ্কারভাবে নিজের সীমা ঠিক করেন এবং সেটা মেন্টেন করেন, তখন মানুষ স্বাভাবিকভাবেই আপনাকে বেশি সম্মান করতে শুরু করে।

Author

You may also like

Leave a Comment

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles