বাংলাস্ফিয়ার: ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এখন কার্যত কেঁপে উঠছে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল। সাম্প্রতিক আক্রমণে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে এক হাজারেরও বেশি ড্রোন এবং ১৯৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও কাতারের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এমনকি ওমানও এই হামলার বাইরে থাকেনি—যে দেশটি মাত্র কয়েক দিন আগেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শেষ মুহূর্তের মধ্যস্থতার চেষ্টা করছিল।
এই ধারাবাহিক আক্রমণের ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর—যা পৃথিবীর অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর—প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। কেবল কিছু সীমিত “repatriation flight” বা নিজ নিজ দেশে নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার ফ্লাইট চলছে। ফলে হাজার হাজার যাত্রী বিমানবন্দরে ও আশপাশে আটকে পড়েছেন, আর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ভ্রমণ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলো এখন নিজেদের প্রতিক্রিয়া কী হবে তা নিয়ে গভীরভাবে ভাবছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ কূটনৈতিক কর্মকর্তা আনোয়ার গারগাশ ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সামরিক প্রতিশোধ নেওয়ার সম্ভাবনা “নিশ্চয়ই” বিবেচনার মধ্যে রয়েছে। সৌদি আরবের কর্মকর্তারাও একই ধরনের সংকেত দিচ্ছেন। সম্ভাব্য পদক্ষেপের পরিসর নানা রকম হতে পারে—পারস্য উপসাগরের আকাশসীমায় যৌথ টহল পরিচালনা করা থেকে শুরু করে ইরানের ওপর সীমিত বা প্রতীকী সামরিক হামলা চালানো পর্যন্ত।
কিন্তু সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও কম নয়। যদি উপসাগরীয় দেশগুলো পাল্টা আক্রমণে যায়, তবে ইরান আরও বড় মাত্রায় প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে পারে। ফলে এই দেশগুলোর সামনে এখন দুটি কঠিন প্রশ্ন দাঁড়িয়ে গেছে। প্রথমত, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য যে ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুত রয়েছে, তা কত দিন পর্যন্ত টিকে থাকবে—যদিও সরকারি মহল বলছে মজুত যথেষ্ট। দ্বিতীয়ত, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অর্থনীতিতে যে ধাক্কা লাগছে, তা তারা কতটা সহ্য করতে পারবে।