Home বড় খবর নীতিশবাবু ছাড়লেন গদি চললেন দিল্লি

নীতিশবাবু ছাড়লেন গদি চললেন দিল্লি

0 comments 11 views
A+A-
Reset

বাংলাস্ফিয়ার: বিহারের দীর্ঘদিনের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার অবশেষে রাজ্য রাজনীতির প্রথম সারি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তিনি রাজ্যসভায় যেতে চান। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বিহারের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রায় দুই দশক ধরে বিহারের রাজনীতিতে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে আসা নীতীশ কুমার নিজের রাজনৈতিক যাত্রার এই নতুন পর্যায়ে প্রবেশের কথা সামাজিক মাধ্যমে জানান। তিনি বিহারের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে যে আস্থা ও সমর্থন তাঁরা তাঁকে দিয়েছেন, সেটিই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ।

নীতীশ কুমারের এই পদক্ষেপের ফলে বিহারের ক্ষমতার ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কারণ এতদিন পর্যন্ত বিহারে ভারতীয় জনতা পার্টি জোটসঙ্গী হলেও মুখ্যমন্ত্রীর পদটি ছিল নীতীশের দল জনতা দল(ইউনাইটেড)-এর হাতে। কিন্তু তিনি সরে দাঁড়ালে প্রথমবারের মতো বিজেপি সরাসরি নিজেদের মুখ্যমন্ত্রী বসানোর সুযোগ পেতে পারে। এতে রাজ্যের ক্ষমতার সমীকরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যেতে পারে।

এই সিদ্ধান্তের সময়টিও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। সাম্প্রতিক নির্বাচনে National Democratic Alliance জোটের সাফল্যের পরই এই ঘোষণা এসেছে। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, আগাম রাজনৈতিক পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরি করার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে জোটের ভিত আরও শক্ত করা এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া হতে পারে।

নীতীশ কুমারের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পরিকল্পনার দিক থেকেও এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজ্য রাজনীতি পরিচালনা করেছেন, কিন্তু জাতীয় রাজনীতিতে সংসদের উচ্চকক্ষে ভূমিকা রাখার ইচ্ছা তাঁর বহুদিনের। রাজ্যসভায় গেলে তিনি কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী পরিসরেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারবেন।

এদিকে বিহারের রাজনৈতিক মহলে আরেকটি জল্পনা দ্রুত ছড়িয়েছে। নীতীশ কুমারের ছেলে নিশান্ত কুমারকে রাজনীতিতে আনার প্রস্তুতি চলছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও হয়নি, তবু রাজনৈতিক মহলের অনেকেই মনে করছেন ভবিষ্যতে তাঁকে রাজ্যের ক্ষমতার কাঠামোর কোনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যেতে পারে—সম্ভবত উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবেও।

সব মিলিয়ে নীতীশ কুমারের এই পদত্যাগ শুধু একটি ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি বিহারের ক্ষমতার রাজনীতিতে একটি বড় মোড়। প্রায় দুই দশক ধরে যে নেতৃত্ব রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণ করেছে, তার পরিবর্তে এখন নতুন নেতৃত্বের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

আগামী দিনে বিজেপি যদি সত্যিই নিজের মুখ্যমন্ত্রী বসায়, তবে বিহারের রাজনীতিতে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ধীরে ধীরে বদলে যেতে পারে। আর সেই পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে নীতীশ কুমারের এই ঘোষণার মাধ্যমেই।

Author

You may also like

Leave a Comment

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles