বাংলাস্ফিয়ার: ইরানের নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি বলেছেন, আয়াতোল্লাহ খামেনেইর মৃত্যুর ফলে এমন একটি দরজা খুলেছে, যার জন্য তিনি প্রায় পাঁচ দশক ধরে অপেক্ষা করে আছেন। প্যারিস থেকে সিবিএসের 60 Minutes অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা এখন “পতনের মুখে” এবং দেশকে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে এগিয়ে নিতে তিনি অস্থায়ী নেতৃত্ব গ্রহণে প্রস্তুত; তবে রাজা হিসেবে নয়, কিংবা নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবেও নয়।
শনিবার ওয়াশিংটন পোস্ট-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি লেখেন, “অসংখ্য ইরানি—অনেকেই গুলির মুখে দাঁড়িয়ে—আমাকে এই রূপান্তরের নেতৃত্ব দিতে আহ্বান জানিয়েছেন।”
সাক্ষাৎকারে পাহলভি ধর্মতান্ত্রিক শাসন-পরবর্তী ইরানের জন্য চারটি মৌলিক ভিত্তির কথা তুলে ধরেন—
প্রথমত, দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রাখা;
দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে পৃথক করা;
তৃতীয়ত, আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা;
চতুর্থত, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো নির্ধারণে জনগণের ভোটকে চূড়ান্ত মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ভেঙে ফেলার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতে ইসরায়েলের সঙ্গে অংশীদারিত্ব ও শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক গড়ার স্বপ্নের কথাও বলেন।
রেজা পাহলভি ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর নির্বাসনে চলে যান, যখন তাঁর পিতা, শেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি ক্ষমতাচ্যুত হন। সেই শাসনামলের স্বৈরতন্ত্র ও দমননীতির সমালোচনা প্রসঙ্গে পাহলভি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে লক্ষ লক্ষ মানুষ ইরানের ভেতরে তাঁর নাম উচ্চারণ করছেন—যা তিনি পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের শাসনের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের প্রশংসা করলেও স্পষ্ট করে দেন, তিনি আনুষ্ঠানিক মার্কিন সমর্থনের প্রত্যাশা করছেন না। তাঁর দাবি, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর একটি অংশ ইতিমধ্যেই “ডুবন্ত জাহাজ” ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।
পাহলভির ভাষায়, “এটাই আমাদের সুযোগ।”
তাঁর এই বক্তব্য ইরানের সম্ভাব্য রাজনৈতিক রূপান্তর নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা ও জল্পনার জন্ম দিয়েছে।