বাংলাস্ফিয়ার: সকাল সকাল পরীক্ষা দিতে গিয়েছিল অষ্টম শ্রেণির ছাত্র পৃথ্বিরাজ হালদার। কিন্তু আর বাড়ি ফেরা হল না তার। মা-বাবার কোল খালি করে চিরতরে বিদায় নিল বছর ১৪-র কিশোর।
মৃত পড়ুয়ার পরিবার স্কুল কর্তৃপক্ষকে কাঠগোড়ায় তুলেছে। পৃথ্বিরাজের বাবার অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অবহেলার কারণেই তাঁর ছোট ছেলে মারা গিয়েছে। ঘটনার বিবরণ দেওয়ায় সময় সাংবাদিকদের তিনি জানান, সকাল বেলায় পর পর তিনবার তাঁর কাছে ফোন আসে। যদিও সেই ফোন রিসিভ করতে ব্যর্থ হন তিনি। এরপর ঘুরিয়ে যখন তিনি ফোন করেন, তখন স্কুলকর্তৃপক্ষ তাঁকে ছেলের অসুস্থতার বিষয়ে জানায়। সেইসঙ্গে তাঁর সংযোজন, ফোনে স্কুল কর্তৃপক্ষকে তিনি অনুরোধ করেছিলেন যাতে তাঁর ছেলে ভালো চিকিৎসা পায়। তাঁর সেই কথায় নাকি কর্ণপাত করে নি স্কুল কর্তৃপক্ষ। এমনকী অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত ডাকা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
রাজকুমার বাবুর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথমে পরিকাঠামোহীন একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর ছেলেকে। এরপর দায় এড়াতে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ছেলেকে বাঁচাতে নামি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেন বাবা। যাত্রাপথে নাকি স্কুলের প্রিন্সিপাল লিখিত চান। কী কারণে তাঁর কাছ থেকে লিখিত চাওয়া হয়? সে বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মৃত পড়ুয়ার বাবা।
এরপর পৃথ্বিরাজকে হাসাপাতালে ভর্তি করা হলে, কিছুক্ষণ মধ্যেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেনা। জানা গিয়েছে, ছোটবেলা থেকেই The Summit School-এ পড়ত পৃথ্বিরাজ। বাবা রাজকুমার হালদার পেশায় একজন ব্যবসায়ী। কীভাবে পরীক্ষার দিনেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল, ইতিমধ্যেই তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বাড়ির ছেলেকে হারানোর যন্ত্রনায় ভেঙে পড়েছেন মা বাবা। গোটা পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।