2
বাংলাস্ফিয়ার: কেন ঘুমের সময় নয়, ঘুমের গুণমান বেশি গুরুত্বপূর্ণ? ঘুম নিয়ে গবেষণায় অনেক সময় বলা হয়, কম ঘুম হলে হৃদরোগ, উদ্বেগ আর ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। কারণ ঘুমের সময় মাপা সহজ, তাই বেশিরভাগ গবেষণা আর খবর ঘুমের ঘণ্টার ওপরেই বেশি জোর দেয়। এর থেকেই “৮ ঘণ্টা ঘুমই আদর্শ”—এই ধারণা জনপ্রিয় হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ঘুম শুধু কত ঘণ্টা হলো, সেটা দিয়েই সব বোঝা যায় না। নতুন গবেষণা বলছে, ঘুমের গুণমান, মানে কতটা ভালো ঘুম হলো, সেটাই আসলে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভালো মানের ঘুম শরীরের স্বাস্থ্য, মানসিক স্থিতি, মনোযোগ, উৎপাদনশীলতা আর প্রতিদিনের এনার্জির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। নিউরোসায়েন্টিস্ট অরোর পেরো বলেছেন, অনেক সময় সমস্যা ঘুমের সময় কম হওয়ার জন্য নয়, বরং ঘুমের মান খারাপ হওয়ার জন্য। এই গবেষণায় ২২–৩৬ বছর বয়সী ৭৭০ জন সুস্থ মানুষের ঘুম, ব্রেন স্ক্যান, মানসিক অবস্থা আর জীবনযাত্রার নানা দিক বিশ্লেষণ করা হয়। দেখা যায়, কম ঘুমে মনোযোগ কমে যায় ঠিকই, কিন্তু খারাপ মানের ঘুমের সঙ্গে বেশি যুক্ত ছিল ডিপ্রেশন, উদ্বেগ, স্ট্রেস, রাগ, ভয় আর সারাদিন ক্লান্ত লাগা। ব্রেন স্ক্যানেও দেখা গেছে, খারাপ ঘুম ব্রেনের কাজ আর গঠন দুটোর ওপরই প্রভাব ফেলে। একটা অদ্ভুত বিষয়ও ধরা পড়ে। কিছু মানুষের মধ্যে খারাপ ঘুমের সব লক্ষণ ছিল, কিন্তু তারা নিজেরা ভাবছিল তাদের ঘুম ঠিকই হচ্ছে। হয়তো তারা সমস্যাটা বুঝতে পারেনি, গুরুত্ব দেয়নি, বা ক্লান্ত থাকাটাকে স্বাভাবিক বলে মেনে নিয়েছে। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সবার জন্য নির্দিষ্ট “আদর্শ” ঘুমের সময় নেই। কার কতটা ঘুম দরকার, সেটা ব্যক্তি, বয়স আর জীবনযাত্রার ওপর নির্ভর করে। অনেকেই ৬–৮ ঘণ্টায় ভালো থাকেন, আবার কারও বেশি দরকার হয়। আসল বিষয় হলো, ঘুমটা কতটা সতেজ করে তুলছে। ভালো ঘুমের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ডিপ স্লিপ বা গভীর ঘুম। এই সময় ব্রেন দিনের জমে থাকা টক্সিন পরিষ্কার করে আর শরীর নিজেকে রিপেয়ার করে। কিন্তু অনেক সময় আপনি দীর্ঘক্ষণ ঘুমিয়েও সেই গভীর ঘুমে যেতে পারেন না। স্ট্রেস, অ্যালকোহল, ক্যাফেইন, অনিয়মিত ঘুমের সময়, ব্যায়ামের অভাব, আর কম সূর্যালোক, এই সবই ঘুমের মান নষ্ট করতে পারে। আপনার ঘুম ভালো হচ্ছে কিনা বোঝার সহজ উপায় হলো, দিনে আপনি কেমন অনুভব করছেন সেটা লক্ষ্য করা। যদি প্রায়ই ক্লান্ত লাগে, বিরক্ত লাগে, বা মনোযোগ কম থাকে, তাহলে আপনার ঘুমের মান ভালো নয় যদিও আপনি পর্যাপ্ত সময় ঘুমিয়ে থাকেন। সবশেষে, মূল কথাটা হলো, ঘুমের ঘণ্টা নয়, ঘুমের গুণমানই আসল। ভালো মানের ঘুম শরীর, মন আর দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি। আর খারাপ ঘুম অনেক সময় শরীর বা জীবনযাত্রার অন্য সমস্যার লক্ষণ যা গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।