বাংলাস্ফিয়ার: আমরা কেন দিন দিন আরও একা হয়ে যাচ্ছি? কেন তরুণরা এখন বেশি সময় একা কাটাচ্ছে? কিছুদিন আগে, সূর্যাস্তের সময় পাশের একটা স্পোর্টস কমপ্লেক্সের সামনে দিয়ে হাঁটছিলাম। জায়গাটা প্রায় ফাঁকা। কোর্ট আছে, বেঞ্চ আছে, খোলা জায়গা আছে— কিন্তু মানুষ খুবই কম। যারা ছিল, তারাও একসাথে বসে ফোন দেখছিল। ছোটবেলায় এই জায়গাটা কত ভিড় থাকত, সেটা মনে পড়তেই অদ্ভুত লাগল। এটা একটা বড় পরিবর্তনের লক্ষণ। শুধু যে তরুণরা কম বেরোচ্ছে তা নয়, তারা একে অপরের সঙ্গে সরাসরি কম দেখা করছে। আর এর প্রভাব এখন তাদের মানসিক সুস্থতার ওপর পড়ছে। সমস্যা একা থাকা নয়। সমস্যা হলো সামনাসামনি দেখা করার অভ্যাসটাই কমে যাওয়া। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, তরুণদের মধ্যে সরাসরি মেলামেশা ধীরে ধীরে কমছে। ইউরোপে, গত এক দশকে সপ্তাহে একবারও সামাজিকভাবে মেলামেশা করে না এমন তরুণের সংখ্যা ১০ জনে ১ জন থেকে বেড়ে ৪ জনে ১ জন হয়েছে। একই সময়ে, এই বয়সের মধ্যেই মানসিক সমস্যাও বেড়েছে। সামাজিক জীবন পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি, এটা স্ক্রিনের মধ্যে চলে গেছে। স্মার্টফোন আর সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবে দেখা করার সময় কমে গেছে। আগে যে সময়টা বন্ধুদের সঙ্গে কাটত, এখন সেটা যাচ্ছে স্ক্রল করা, গেম খেলা, বা একা একা কনটেন্ট দেখার পেছনে। মজার ব্যাপার হলো, তরুণরা নিজেরাই বলছে যে এসব কাজ তাদের দিনের সবচেয়ে কম অর্থপূর্ণ আর কম সন্তোষজনক অংশ। প্রযুক্তি নিজে সমস্যা নয়। সমস্যা তখনই হয়, যখন এটা বাস্তব সামাজিক জীবনকে প্রতিস্থাপন করে দেয়, পরিপূরক না হয়ে। কারণ, অনলাইনে কথা বলা, বাস্তবে একসাথে থাকার অনুভূতিটা পুরোপুরি দিতে পারে না। ফলে, তরুণরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় একা কাটাচ্ছে। আর দেখা গেছে, একই কাজ একা করলে যতটা আনন্দ বা সন্তুষ্টি পাওয়া যায়, অন্যদের সঙ্গে করলে তার চেয়ে অনেক বেশি পাওয়া যায়। এর প্রভাবও পরিষ্কার। ২০১০ সালে, ৩৮% তরুণ তাদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট ছিল। ২০২৩ সালে, সেটা কমে দাঁড়িয়েছে ২৫%-এ। তরুণ বয়সটা সামাজিকভাবে খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে একাকীত্ব মানসিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায় এবং জীবনের সন্তুষ্টি কমিয়ে দেয়। এটা হঠাৎ করে হয় না— ধীরে ধীরে হয়। একটু কম দেখা করা, একটু বেশি স্ক্রিন টাইম, আর ধীরে ধীরে বাস্তব সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যাওয়া। আজকের জীবনের সবচেয়ে বড় বিরোধাভাস হল, আমরা কখনও এত বেশি connected ছিলাম না, তবুও বাস্তবে আমরা আগের চেয়ে অনেক বেশি আলাদা। সবাই অনলাইনে আছে। কিন্তু খুব কম মানুষ সত্যিকারের একসাথে আছে।
3
previous post