বাংলাস্ফিয়ার: ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা আগামী রবিবার বৈঠকে বসতে চলেছে—যে বৈঠকটি আসলে এক সপ্তাহ আগেই হওয়ার কথা ছিল। এই বিলম্ব নিজেই একটি ইঙ্গিত বহন করে: ইসরায়েলের নেতৃত্ব এখনো নিশ্চিত নয়, তাদের প্রধান মিত্র আমেরিকা আদৌ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালাবে কি না।
ইজরায়েল বহু বছর ধরেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে একটি অস্তিত্বগত হুমকি হিসেবে দেখে আসছে। তেহরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারকে তারা “অগ্রহণযোগ্য” বলে মনে করে এবং এই কর্মসূচির ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপে আমেরিকাকে চাপ দিয়ে এসেছে। ইসরায়েলের কৌশলগত চিন্তায় বিষয়টি কেবল সামরিক নয়—এটি আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য, প্রতিরোধনীতির বিশ্বাসযোগ্যতা এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার প্রশ্ন।
গত সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Binyamin Netanyahu-র সঙ্গে বৈঠকের পর বলেন, ইরান প্রসঙ্গে “কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত” নেওয়া হয়নি। এই মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে ওয়াশিংটনের ভেতরে এখনো হিসাব-নিকাশ চলছে—সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকি, কূটনৈতিক বিকল্পের পরিসর এবং আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা নিয়ে।
তবু প্রস্তুতি থেমে নেই। আমেরিকা যদি আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ইসরায়েল তাতে যোগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে—এবং সেই সিদ্ধান্তের পরিণতিও সামাল দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। সর্বশেষ যৌথ আঘাত হয়েছিল ২০২৫ সালের জুনে। তখন ইরান পাল্টা হিসেবে ইসরায়েলের শহরগুলিতে ৫০০-র বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। অধিকাংশই প্রতিরোধ ব্যবস্থায় ধরা পড়ে, কিন্তু কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ভেদ করে ঢুকে পড়ে—২৮ জন নিহত হন। সেই অভিজ্ঞতা ইসরায়েলকে মনে করিয়ে দিয়েছে, আক্রমণ কেবল কৌশলগত বার্তা নয়; এর তাৎক্ষণিক মানবিক ও অবকাঠামোগত মূল্যও আছে।
ইরানের সঙ্গে এই টানাপোড়েন নতুন নয়। ইসরায়েল বহু বছর ধরে মার্কিন প্রশাসনগুলিকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার জন্য লবিং করেছে। এখন পরিস্থিতির পরিহাস—যে কঠোরতার দাবি তারা এতদিন করেছে, সেটিই বাস্তবায়নের প্রশ্নে তাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য।
এই মুহূর্তে ছবিটা তাই দ্বিধাগ্রস্ত: একদিকে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি, অন্যদিকে কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা। সিদ্ধান্তের ভার এখন মূলত আমেরিকার হাতে—আর ইসরায়েল অপেক্ষা করছে, সেই সিদ্ধান্ত কোন পথে ইতিহাসকে ঠেলে দেয়।