Home সংবাদভুবনডাঙা উত্তরাধিকার সংকটে প্রিন্স অ্যান্ড্রু

উত্তরাধিকার সংকটে প্রিন্স অ্যান্ড্রু

0 comments 2 views
A+A-
Reset

বাংলাস্ফিয়ার:  ব্রিটেনের রাজনীতিতে এক অস্বস্তিকর মুহূর্ত তৈরি হয়েছে। দেশটির সরকার নাকি এমন একটি আইন প্রণয়নের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে, যার মাধ্যমে Andrew Mountbatten-Windsor—যিনি একসময় ‘প্রিন্স অ্যান্ড্রু’ নামে পরিচিত ছিলেন—তাঁকে উত্তরাধিকার সূত্রে সিংহাসনের লাইনের বাইরে সরিয়ে দেওয়া যেতে পারে।

বর্তমানে তিনি ব্রিটিশ সিংহাসনের অষ্টম উত্তরাধিকারী। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ‘misconduct in public office’—অর্থাৎ সরকারি দায়িত্বে অসদাচরণের সন্দেহে। পরে তাঁকে তদন্তাধীন অবস্থায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই প্রশ্ন: তিনি কি দণ্ডিত যৌন অপরাধী Jeffrey Epstein-এর সঙ্গে শ্রেণিবদ্ধ (classified) সরকারি নথি ভাগ করেছিলেন?

অ্যান্ড্রু সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

আইনগত ও সাংবিধানিক তাৎপর্য

ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের উত্তরাধিকার নির্ধারিত হয় মূলত Act of Settlement এবং পরবর্তী আইন, বিশেষ করে Succession to the Crown Act-এর মাধ্যমে। কাউকে উত্তরাধিকার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া অত্যন্ত বিরল এবং তা করতে হলে সংসদের স্পষ্ট আইন প্রয়োজন।

সরকার যদি সত্যিই অ্যান্ড্রুকে উত্তরাধিকার লাইন থেকে সরাতে চায়, তবে সেটি হবে একটি সাংবিধানিক দৃষ্টান্ত। কারণ:

  1. এটি শুধু ব্যক্তিগত শাস্তি নয়, বরং রাজতান্ত্রিক কাঠামোর মর্যাদা রক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
  2. এতে পার্লামেন্ট সরাসরি রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে।
  3. রাজা—বর্তমানে Charles III—সরাসরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে জড়িত নন; এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণরূপে সরকার ও পার্লামেন্টের এখতিয়ারভুক্ত।

অভিযোগের প্রেক্ষাপট

অ্যান্ড্রু অতীতে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত (trade envoy) হিসেবে কাজ করেছেন। অভিযোগ উঠেছে যে সেই সময় তিনি সংবেদনশীল সরকারি তথ্য Jeffrey Epstein-এর সঙ্গে শেয়ার করেছিলেন। এপস্টেইন ইতিমধ্যেই একাধিক যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এবং পরে কারাগারে মারা যান।

যদিও তদন্ত এখনও চলমান এবং আদালতে প্রমাণিত কিছু নয়, তবু এই অভিযোগ রাজপরিবারের ভাবমূর্তিতে বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজতন্ত্রের বৈধতা অনেকাংশে জনআস্থার ওপর নির্ভরশীল; ফলে রাজনৈতিক চাপ দ্রুত বেড়েছে।

সম্ভাব্য পরিণতি

  • আইন পাস হলে: অ্যান্ড্রু উত্তরাধিকার তালিকা থেকে বাদ পড়বেন, তবে এতে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘ডিউক অফ ইয়র্ক’ উপাধি হারাবেন কিনা, তা আলাদা সাংবিধানিক প্রশ্ন।
  • আইন না হলে: তিনি আইনত উত্তরাধিকার তালিকায় থাকবেন, যদিও কার্যত তাঁর রাজকীয় দায়িত্ব বহু আগেই সীমিত করা হয়েছে।
  • তদন্তের ফলাফল নির্ধারক হবে: যদি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন হয় বা আদালতে দোষ প্রমাণিত হয়, তাহলে রাজনৈতিক চাপ বহুগুণ বাড়বে।

বৃহত্তর প্রেক্ষাপট

ব্রিটিশ রাজতন্ত্র ইতিমধ্যেই আধুনিকতার চাপে রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রাজপরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত আচরণ এখন আর কেবল ব্যক্তিগত থাকে না; তা রাষ্ট্রের নৈতিক প্রতিচ্ছবির সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। অ্যান্ড্রুর এই মামলা সেই প্রশ্নটিকেই সামনে নিয়ে এসেছে—রাজতন্ত্রের সদস্যদের জন্য নৈতিক ও আইনি মানদণ্ড কতটা কঠোর হওয়া উচিত?

এই মুহূর্তে সবকিছু নির্ভর করছে তদন্তের অগ্রগতির ওপর। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার: ব্রিটেনের সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের ইতিহাসে এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে।

Author

You may also like

Leave a Comment

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles