বাংলাস্ফিয়ার: গত ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের রাতে নরেন্দ্রপুরের নাজিরাবাদ এলাকার একটি গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান একাধিক শ্রমিক। দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও অনিশ্চয়তার পর অবশেষে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিহতদের মধ্যে ১৮ জনের দেহাংশ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আজ সেই দেহাংশ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
দুর্ঘটনার পর থেকেই বহু শ্রমিক নিখোঁজ ছিলেন। স্বজনদের অনেকেই আশা করেছিলেন প্রিয়জন হয়তো কোথাও চিকিৎসাধীন বা নিরাপদে আছেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই আশা ক্ষীণ হয়ে আসে। অবশেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিবারের দেওয়া রক্তের নমুনার সঙ্গে ডিএনএ মিলেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনাক্ত হওয়া ১৮ জনের মধ্যে ১৬ জন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার, একজন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার এবং একজন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বাসিন্দা। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সকাল ১১টার মধ্যে নরেন্দ্রপুর থানায় উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। সেখান থেকে পুলিশ তাঁদের নিয়ে যাবে কাঁটাপুকুর মর্গে, যেখানে দেহাংশ হস্তান্তর করা হবে। সেইমতো পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন স্থানীয় থানার পক্ষ থেকে পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তমলুক সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের সভাপতি সুজিত কুমার রায় জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের কাছে একটি তালিকা এসেছে সেই তালিকায় ১৬ জনের ডিএনএ ম্যাচ করেছে প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের আজ শনিবার নরেন্দ্রপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হবে তারপর তাদের হাতে নিহতদের দেহাংশ গুলি তুলে দেওয়া হবে ।
ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল বারুইপুর মহকুমা হাসপাতাল থেকে এবং নির্দিষ্ট পরীক্ষাগারে পাঠিয়ে মিলিয়ে দেখা হয় পোড়া দেহাংশের সঙ্গে। এখনও ৯ জনের দেহাংশ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দুটি গুদামের একটি বহুজাতিক মোমো উৎপাদনকারী কারখানা এবং অন্যটি ডেকোরেটর সামগ্রীর গুদাম ছিল। ঘটনায় মোট ২৭টি পরিবার নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করেছিল।
নিহতদের পরিবারকে সরকারি চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডেথ সার্টিফিকেট প্রদান শেষে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা হবে।
এই ঘটনায় ডেকোরেটর গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাস এবং মোমো কারখানার দুই ম্যানেজার রাজা চক্রবর্তী ও মনোরঞ্জন সিটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা বর্তমানে বারুইপুর সংশোধনাগারে বন্দি রয়েছেন।