Home বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনিশ্চয়তাই আসল ক্লান্তি

অনিশ্চয়তাই আসল ক্লান্তি

0 comments 30 views
A+A-
Reset

বাংলাস্ফিয়ার: লক্ষ‍্য করে দেখবেন,কঠিন কাজ আপনাকে ক্লান্ত করে না। অস্পষ্ট কাজ করে। একটা অদ্ভুত ব্যাপার হয়তো আপনি নিজেই লক্ষ্য করেছেন। একটা বড়, বিস্তারিত রিপোর্ট লেখা কঠিন কিন্তু সামলানো যায়। কারণ আপনি জানেন কী করতে হবে এবং কখন কাজ শেষ হবে। কিন্তু বসের একটা ছোট, অস্পষ্ট মেসেজ—“তোমার মতামত জানাও”—পুরো বিকেলটাই আপনার এনার্জি শেষ করে দিতে পারে।

সমস্যাটা তাই কাজটা  কঠিন কিনা তা নয়। সমস্যাটা হল অনিশ্চয়তা। নিউরোসায়েন্স অনুযায়ী, আমাদের মস্তিষ্ক আসলে একটা “prediction machine”। এর অর্থ, পরের মুহূর্তে কী হবে, সেটা আগেই আন্দাজ করার চেষ্টা করে। যখন কোনও কাজের লক্ষ্য পরিষ্কার থাকে, তখন মস্তিষ্ক জানে কোথায় ফোকাস করতে হবে এবং কখন থামতে হবে। কিন্তু যখন কাজটা অস্পষ্ট হয়, তখন মস্তিষ্ক বারবার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে ভাবতে থাকে—কী বোঝাতে চেয়েছে, কতটা করতে হবে, ঠিক করছি তো? এই অনবরত ভাবনা মস্তিষ্ককে হাই অ্যালার্ট অবস্থায় রাখে, আর তাতেই বেশি মানসিক শক্তি খরচ হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, অনিশ্চয়তা মস্তিষ্কের সেই অংশগুলোকে বেশি সক্রিয় করে যেগুলো সিদ্ধান্ত নেওয়া, মনোযোগ এবং মানসিক পরিশ্রমের জন্য দায়ী। সহজভাবে বললে, যখন কিছু পরিষ্কার নয়, তখন মস্তিষ্ককে একসঙ্গে অনেক সম্ভাবনা ধরে রাখতে হয়—আর সেটাই ক্লান্তিকর।

এবার দেখি,কোন ধরনের অনিশ্চয়তা মস্তিষ্ককে সবচেয়ে বেশি ক্লান্ত করে

১. অস্পষ্ট লক্ষ্য যেমন—“এটা একটু ভালো করো।” কিন্তু ভালো মানে ঠিক কতটা? কোথায় থামবেন?

২. খোলা নির্দেশ যেমন—“স্ট্র্যাটেজি নিয়ে ভাবো।” পাঁচ মিনিট ভাববেন, না পাঁচ দিন, কিছুই পরিষ্কার নয়।

৩. অন্যের উপর নির্ভরতা- কোনও কাজ করতে হলে যদি অন্য কারও সাহায‍্য  দরকার হয় অথচ কখন সেটা পাবেন জানেন না এমন একটি পরিস্থিতিতে মস্তিষ্ক সেই কাজটা খোলা অবস্থাতেই  রেখে দেয়।

৪. সামাজিক অনিশ্চয়তা- যেমন “তোমার কাজটা নিয়ে কথা বলতে চাই।” এটা ভালো না খারাপ এই ভাবনাই অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে। এই কারণেই আপনি একটা কঠিন রিপোর্ট শেষ করে ক্লান্ত হলেও সন্তুষ্ট বোধ করেন। কারণ কাজটা স্পষ্ট ছিল। কিন্তু একটা অস্পষ্ট মেসেজ আপনাকে বেশি ক্লান্ত করে দেয়, কারণ মস্তিষ্ক বারবার সেটা নিয়ে ভাবতেই থাকে।

এই মানসিক চাপ কমানোর উপায় যে নেই তা নয়। ধরা যাক  আপনি অন্যদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাহলে সবচেয়ে বড় উপায় হোল সহকর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া। “তোমার মতামত দাও” বলার বদলে বলুন, “মঙ্গলবারের মধ্যে তিনটে অপশন লিখে দাও।” “এটা ভালো করো” বলার বদলে বলুন, “এই কাজের  পারফরম্যান্স ১৫% বাড়াতে হবে।” আর যদি আপনি নিজের কাজ নিজে সামলান, তাহলে নিজেই সীমা ঠিক করুন। যেমন “আমি ৯০ মিনিট সময় দেব, পাঁচটা আইডিয়া লিখব, তারপর পাঠিয়ে দেব।” এতে মস্তিষ্ক জানে কোথায় থামতে হবে, আর চাপ অনেক কমে যায়।

আসল সত্যটা কী? অনিশ্চয়তা দেখতে সহজ মনে হয়—একটা ছোট মেসেজ, ছোট অনুরোধ। কিন্তু মস্তিষ্কের জন্য এটা অনেক বেশি ক্লান্তিকর। কঠিন কাজ আসলে সমস্যা নয়। অস্পষ্ট কাজই আসল সমস্যা। আপনি যদি বেশি মানসিক শক্তি ধরে রাখতে চান, তাহলে কাজ কমানোর চেয়ে কাজকে পরিষ্কার করা বেশি জরুরি। কারণ স্পষ্ট লক্ষ্যসহ কঠিন কাজ, অস্পষ্ট সহজ কাজের চেয়ে অনেক কম ক্লান্তি।

 

Author

You may also like

Leave a Comment

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles