বাংলাস্ফিয়ার: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ হোয়াইট হাউসে একটি প্রেস কনফারেন্সে তিনি রায়কে “গভীরভাবে হতাশাজনক” (deeply disappointing) বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “আমি কোর্টের কিছু সদস্যের জন্য লজ্জিত, একেবারে লজ্জিত, কারণ তারা আমাদের দেশের জন্য যা ঠিক তা করার সাহস দেখাননি।” তিনি বিচারপতিদের “বোকা এবং ল্যাপডগ” (fools and lap dogs) বলে সমালোচনা করেন, এবং অভিযোগ করেন যে তারা “রিপাবলিকান ইন নেম ওনলি (RINOs) এবং র্যাডিক্যাল লেফট ডেমোক্র্যাটস”-এর পুতুল। আরও বলেন, “তারা আমাদের সংবিধানের প্রতি অপ্রিয় এবং বিশ্বাসঘাতক।” কোনো প্রমাণ ছাড়াই তিনি দাবি করেন যে কোর্ট বিদেশি স্বার্থের প্রভাবিত হয়েছে। এই প্রতিক্রিয়ায় তিনি নিজের নিয়োগকৃত বিচারপতিদেরও ছাড়েননি, যেমন নিল গর্সুচ এবং অ্যামি কনি ব্যারেটকে লক্ষ্য করে বলেন, “এটা তাদের পরিবারের জন্য লজ্জাজনক।
তাঁর এই ক্রোধপূর্ণ বক্তব্যে তিনি রায়কে “জাতির জন্য অপমান” বলে বর্ণনা করেন এবং বলেন যে এটি “অন্যায় এবং অপ্রিয়”। তিনি আরও বলেন, “আমি মনে করি না কোর্ট এটাই বোঝাতে চেয়েছে, কিন্তু এটাই যেভাবে হয়েছে।” এই ধরনের সমালোচনা ট্রাম্পের সাধারণ স্টাইলে, যেখানে তিনি প্রতিপক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেন।
১০% শুল্ক আরোপের ঘোষণা: কী, কেন এবং কীভাবে
রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প তাঁর Truth Social প্ল্যাটফর্মে ঘোষণা করেন যে তিনি ওভাল অফিস থেকে একটি আদেশে সই করেছেন, যা “সব দেশের সব আমদানির ওপর ১০% গ্লোবাল শুল্ক” আরোপ করবে। তিনি লিখেছেন: “এটি আমার জন্য মহান সম্মান যে আমি ওভাল অফিস থেকে সই করেছি, সব দেশের ওপর গ্লোবাল ১০% শুল্ক, যা প্রায় সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হবে।” এই শুল্ক ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা, এবং এটি বিদ্যমান সেক্টর-স্পেসিফিক শুল্কের উপরে অতিরিক্ত।
এই ঘোষণার পিছনে যুক্তি: ট্রাম্প বলেন যে এটি “দেশকে রক্ষা করার জন্য” এবং পূর্ববর্তী শুল্কগুলোর চেয়ে “আরও বেশি” চার্জ করার অনুমতি দেয়। তিনি দাবি করেন যে রায় তাঁকে “আরও শক্তিশালী” করে দিয়েছে, কারণ এটি প্রেসিডেন্টের ট্রেড অথরিটি নিশ্চিত করেছে। এই নতুন শুল্কটি অস্থায়ী—সর্বোচ্চ ১৫০ দিনের জন্য—এবং এতে কিছু ছাড় থাকতে পারে (যেমন: গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ওষুধ, কৃষি পণ্য)। এটি ব্যালেন্স অফ পেমেন্টস (বাণিজ্য ভারসাম্য) সমস্যার কারণ দেখিয়ে আরোপ করা হয়েছে।
শুল্ক নীতি বজায় রাখার জন্য বিকল্প নীতির খোঁজ
ট্রাম্পের প্রশাসন IEEPA-এর পরিবর্তে অন্যান্য আইনি অথরিটি ব্যবহার করে শুল্ক নীতি চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে অনেক দুর্দান্ত বিকল্প রয়েছে,” এবং এগুলো “দীর্ঘ প্রক্রিয়া” হলেও কার্যকর। মূল বিকল্পগুলো:
- সেকশন ১২২ অফ দ্য ট্রেড অ্যাক্ট অফ ১৯৭৪: এটি দিয়ে ১০% গ্লোবাল শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এটি ১৫% পর্যন্ত শুল্কের অনুমতি দেয়, কিন্তু শুধু ১৫০ দিনের জন্য; তারপর কংগ্রেসের অনুমোদন লাগবে।
- সেকশন ২৩২ অফ দ্য ট্রেড এক্সপ্যানশন অ্যাক্ট অফ ১৯৬২: জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সেক্টর-স্পেসিফিক শুল্ক (যেমন স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম) আরোপ। এগুলো অপরিবর্তিত থাকবে।
- সেকশন ২০১ অ্যান্ড ৩০১ অফ দ্য ট্রেড অ্যাক্ট অফ ১৯৭৪: অসাধারণ বাণিজ্য অনুশীলনের বিরুদ্ধে (যেমন চীনের বিরুদ্ধে) শুল্ক আরোপ। ট্রাম্প বলেন, এগুলো দিয়ে “অন্যায় বাণিজ্য অনুশীলনের তদন্ত” করা হবে।
- সেকশন ৩৩৮ অফ দ্য ট্যারিফ অ্যাক্ট অফ ১৯৩০: অসাধারণ শুল্ক আরোপের জন্য ব্যবহার।
তিনি জোর দেন যে এই বিকল্পগুলো দিয়ে তাঁর ট্রেড এজেন্ডা চালিয়ে যাবেন, যা বাণিজ্য অংশীদারদের সাথে আলোচনায় চাপ সৃষ্টি করবে। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, এগুলোর সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং লং-টার্মে কংগ্রেসের সহযোগিতা লাগবে।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া: তীব্র সমালোচনা
ট্রাম্প বিশেষভাবে মেজরিটি (৬-৩) বিচারপতিদের লক্ষ্য করে আক্রমণ করেন, যাদের মধ্যে তাঁর নিয়োগকৃত দু’জন (গর্সুচ ও ব্যারেট) এবং প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস রয়েছেন। তিনি বলেন, “তারা আমাদের দেশের জন্য লজ্জাজনক” এবং “তাদের পরিবারের জন্য অপমান”। তিনি অভিযোগ করেন যে তারা “ভয়ে” বা “বিদেশি প্রভাবে” রায় দিয়েছেন। বিপরীতে, ডিসেন্টিং বিচারপতি (থমাস, আলিটো, কাভানো)-কে তিনি প্রশংসা করেন। তাঁর এই সমালোচনা রাজনৈতিকভাবে চাপ সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু কোর্টের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এই ঘটনা বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। ভারত বা বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর রপ্তানি প্রভাবিত হতে পারে—যদি আরও তথ্য চান, জানান!