Table of Contents
বাংলাস্ফিয়ার: ব্রিটেনের রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে গ্রেফতার করা গোয়েন্দারা কী তদন্ত করছেন? ব্রিটেনের বাণিজ্য দূত হিসেবে কাজ করার সময় তাঁর কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখছেন। এই তদন্তের সূত্রপাত ঘটে মৃত, বিশ্বজুড়ে ধিকৃত এপস্টিনের ইমেল প্রকাশ্যে আসার পর।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁকে “তদন্তাধীন অবস্থায় মুক্তি” দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেফতারের কারণ
ইয়র্কের সাবেক ডিউককে “সরকারি পদে অসদাচরণ”করার সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগের সূত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত নথি, যেখানে দেখা যায় তিনি নাকি সংবেদনশীল সরকারি ও বাণিজ্যিক তথ্য এপস্টিনকে পাঠিয়েছিলেন। যদিও তিনি বরাবরই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
নথিতে কী দেখা গেছে
২০০১–২০১১ টানা দশ বছর অ্যান্ড্রু ব্রিটেনের ট্রেড এনভয় ছিলেন। অভিযোগ ২০১০ সালে তিনি ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর ও চীন সফরের সরকারি রিপোর্ট এপস্টিনকে ফরোয়ার্ড করেছিলেন।
ইমেল অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর ২০১০-এর ৭ অক্টোবর তিনি তাঁর আসন্ন সরকারি সফরের সূচি (সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, শেনঝেন ও হংকং) এপস্টিনকে পাঠান। সফর শেষে ৩০ নভেম্বর তাঁর সহকারী অমিত প্যাটেল ওই সফরের সরকারি রিপোর্টও পাঁচ মিনিটের মধ্যে এপস্টিনকে পাঠান বলে দাবি।

এছাড়া আফগানিস্তানে সোনা ও ইউরেনিয়াম ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সুযোগ সংক্রান্ত তথ্য পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা তাঁর জন্য যে ব্রিফিং তৈরি করেছিলেন—যা পরে বিবিসি রিপোর্ট করে—তাতেও হেলমান্দ প্রদেশে “লাভজনক বাণিজ্য সুযোগ” সংক্রান্ত তালিকা ছিল বলে জানা যায়।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ট্রেড এনভয়দের সংবেদনশীল তথ্য গোপন রাখার বাধ্যবাধকতা থাকে।
যৌন অপরাধ নিয়ে জেরা সম্ভব কি?
আইন বিশেষজ্ঞ রিচার্ড স্কোরার (আইন সংস্থা Slater and Gordon-এর আইনজীবী) বলেছেন—যদি প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে পারে যে তিনি পদমর্যাদা ব্যবহার করে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছেন, তবে সে ভিত্তিতেও মামলা হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি সাবেক বিশপ পিটার বলের মামলার কথা উল্লেখ করেন, যিনি একই অপরাধে কারাদণ্ড পেয়েছিলেন।

পুলিশের বক্তব্য
ব্রিটিশ ঐতিহ্য মেনে পুলিশ গোড়ায় অপরাধীর নাম জানায়নি। তারা শুধু বলেছিলপুলিশ ৬০-এর কোঠায় থাকা এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে করা হএবং বার্কশায়ার ও নরফোকে তল্লাশি চলছে। জাতীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী অভিযুক্তকে অভিযোগ গঠনের আগে শনাক্ত করা হয় না।
গ্রেফতারের পর মামলা “সক্রিয়” হিসেবে গণ্য হয়, ফলে আদালত অবমাননার আইনানুসারে প্রকাশ্যে এমন কিছু বলা বা লেখা যাবে না যাতে বিচারপ্রক্রিয়া প্রভাবিত হয়।
আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি
সরকারি পদে অসদাচরণ অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। যদি কোনও সরকারি কর্মকর্তা ইচ্ছাকৃতভাবে কর্তব্যে গাফিলতি করেন বা ক্ষমতার অপব্যবহার করেন এবং তার ফলে মানুষের বিশ্বাস ভঙ্গ হয় তবে এই অপরাধ প্রযোজ্য।
আইনি জটিলতা
এই অপরাধের সংজ্ঞা অস্পষ্ট বলে দীর্ঘদিন সমালোচিত। আইন সংস্কার সংস্থা আইন কমিশন এটিকে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে “সংজ্ঞায়িত করা সবচেয়ে কঠিন অপরাধগুলির একটি” বলেছিল।
২০১৪–২০২৪ এই দশ বছরে প্রায় ২০০ জনের বিরুদ্ধে এধরনের মামলা হয়েছিল।যাঁদের সাজা হয়েছে তাঁরা বেশিরভাগই পুলিশ বা কারারক্ষী, উচ্চপদস্থদের মধ্যে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন মাত্র চারজন।
বর্তমানে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমনসে থাকা একটি বিল পাশ হলে এই অপরাধের পরিবর্তে দুটি নতুন অপরাধ যুক্ত হবে।