Home খবরা খবর ফের বিএলও’র মৃত্যু, মালদায়

ফের বিএলও’র মৃত্যু, মালদায়

by Ankita Senapati
0 comments 17 views
A+A-
Reset

বাংলাস্ফিয়ার: মালদার সুজাপুরে সহকারী শিক্ষক ও বিএলও মোঃ আনিকুল আলামের আকস্মিক মৃত্যু এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পরিবারের অভিযোগ, কাজের চাপ এবং এসআইআর সম্পর্কিত দায়িত্বের তীব্র চাপে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক তরজা।

স্থানীয়দের কথায়, চুয়ান্ন বছর বয়সী মোঃ আনিকুল আলাম, কালিয়াচক হাই স্কুলের সহকারী শিক্ষক এবং সুজাপুর অঞ্চলের বুথ নম্বর ১৪৪-এর বিএলও ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বিশেষভাবে কাজের চাপ অনুভব করছিলেন। বুধবার ৪৪ জনের পুনরায় এসআইআর ফর্ম ফেরত আসে এবং তাঁর নিজের ফর্মটিও ফেরত আসে। সেই সময় সকালবেলা বুকের ব্যথা অনুভব করলে তিনি তড়িঘড়ি সুজাপুর প্রাথমিক হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে আসেন। এরপর আবার এসআইআর- এর কাজের জন্য বিডিও অফিস যান। অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফেরার পর অবস্থার আরও অবনতি হলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।
মহম্মদ আনিকুলের প্রতিবেশী মহম্মদ আবু বক্কর জানিয়েছেন, বুধবার সকালে সুজাপুর প্রাথমিক হাসপাতাল থেকে তাকে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য বলা হয় এবং চাপ নেওয়া একেবারেই বারণ ছিল তার। বাড়ি ফিরে তিনি বিডিও অফিসে যান। এসআইয়ারের ফর্ম ফেরৎ আসার কারণে তিনি খুব বেশি চিন্তায় পড়ে যান। এর ফলে রাতের দিকে আরও অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রতিবেশী ও বাড়ির লোকেরা তাকে সুজাপুর রয়াল নার্সিংহোমে নিয়ে যান। পরেরদিন সকাল ন’টা নাগাদ তার মৃত্যু হয়।
কাজের চাপ ও দায়িত্বের তীব্রতা নিয়ে পরিবার ও স্থানীয় মানুষদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, এবং এই ঘটনায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। স্থানীয় তৃণমূলকর্মীর মতে, কেন্দ্রের নির্বাচন কমিশন এসআইআর নামক চক্রান্ত করে যেভাবে বাংলার মানুষের নাম বাংলার ভোটার লিস্ট থেকে কেটে বাদ দিতে চাইছে, বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করছে, সেই চাপ নিতে না পেরেই আনিকুল আলমের মৃত্যু হয়েছে। সমস্ত জায়গায় হিয়ারিং শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও গতকাল আবার চুয়াল্লিশ জনের হিয়ারিংয়ের নোটিশ আসে। ৪৪ জনের মধ্যে এই বিএলও’এর নামেও নোটিশ আসে লজিক্যাল ডিসক্রিপেনসির।
উল্টোদিকে বিজেপি কর্মীরা এর তীব্র বিরোধিতা করছেন। তাদের মতে, একজন অসুস্থ মানুষের মৃত্যু নিয়ে তৃণমল কংগ্রেস রাজনীতি করছে । আনিকুল আলমের মৃত্যুতে তারা শোকপ্রকাশ করলেও এসআইয়ারের সাথে এই মৃত্যুর কোনোরকম যোগাযোগ তারা অস্বীকার করছেন।
আনিকুল আলামের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার। তার ছেলে জানিয়েছেন, স্ত্রীয়ের অসুস্থতার কারণে এবং স্কুলের কাজের চাপে সবসময়ই টেনশনে থাকতেন আনিকুল আলাম। এরপর বিএলও’র কাজ যুক্ত হওয়ায় আরও চাপ সৃষ্টি হয় তার ওপর। গত রাতে আনিকুল আলমের পুত্র হায়দ্রাবাদ থেকে আসেন এবং সেই রাতেই আনিকুল আলামের কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। পরেরদিন সকালে তার মৃত্যু হয়।
মোহাম্মদ আনিকুল আলামের আকস্মিক মৃত্যু সুজাপুরে শোকের ছায়া ফেলেছে।

 

Author

You may also like

Leave a Comment

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles