বাংলাস্ফিয়ারঃ২১-৪০ বছর বয়সী, মাধ্যমিক বা তদূর্ধ্ব শিক্ষাগত যোগ্যতা-সম্পন্ন বেকারের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা সরকার আলাদা করে প্রকাশ করে না। তবু উপলব্ধ জনমিতি ও শ্রমশক্তি সমীক্ষার ভিত্তিতে একটি যুক্তিসঙ্গত অনুমান দাঁড় করানো যায়। এখানে ধাপে ধাপে সেই ব্যাখ্যাটি দিচ্ছি।
প্রথমে জনসংখ্যা। পশ্চিমবঙ্গের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১০ কোটির কাছাকাছি। এর মধ্যে ২১-৪০ বছর বয়সী মানুষ সাধারণত মোট জনসংখ্যার আনুমানিক ২৫-২৭ শতাংশ। সে হিসেবে এই বয়সগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ২.৫-২.৭ কোটি।
এবার শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ। এই বয়সের সবাই কাজ খোঁজেন না, ‘অনেকে উচ্চশিক্ষায়, কেউ গৃহস্থালিতে, কেউ স্বেচ্ছায় শ্রমবাজারের বাইরে। পশ্চিমবঙ্গে সামগ্রিক শ্রমশক্তির অংশগ্রহণের হার ৪৫-৫০ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করে (পুরুষেরা বেশি, মহিলারা কম)। একটি মধ্যম অনুমান ধরলে ২১-৪০ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রায় ১.২-১.৩ কোটি মানুষ শ্রমবাজারে সক্রিয়, অর্থাৎ কাজ করছেন বা কাজ খুঁজছেন।
এবার শিক্ষাগত স্তর। ২১-৪০ বছর বয়সী শ্রমশক্তির একটি বড় অংশ মাধ্যমিক বা তার বেশি শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করেছেন। বিভিন্ন সমীক্ষা (যেমন Periodic Labour Force Survey ইঙ্গিত দেয় যে এই বয়সগোষ্ঠীর শ্রমশক্তির প্রায় ৪০-৫০ শতাংশের শিক্ষাগত যোগ্যতা অন্তত মাধ্যমিক বা তদূর্ধ্ব।
যদি আমরা রক্ষণশীলভাবে ৪৫ শতাংশ ধরি, তাহলে ১.২৫ কোটির ৪৫ শতাংশ = ৫৬ লাখ। অর্থাৎ প্রায় ৫৫-৬০ লাখ ২১-৪০ বছর বয়সী মানুষ আছেন, যাঁরা মাধ্যমিক বা তার বেশি শিক্ষিত এবং শ্রমবাজারে সক্রিয়।
এখন মূল প্রশ্ন-এদের মধ্যে কতজন বেকার?
শিক্ষিত যুবকদের বেকারত্বের হার সাধারণ গড়ের তুলনায় বেশি হয়। ১৫-২৯ বছর বয়সী শিক্ষিতদের ক্ষেত্রে বেকারত্বের হার অনেক সময় ১২-২০ শতাংশের মধ্যে থাকে, ২১-৪০ বয়সে কিছুটা কম। হলেও এখনও তা দুই অঙ্কের নিচে নেমে যায় না। একটি যুক্তিসঙ্গত পরিসর ধরা যায় ১০-১৫ শতাংশ।
যদি ৫৬ লাখ শিক্ষিত শ্রমশক্তির ১২ শতাংশ বেকার ধরা হয়, তাহলে সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৬.৭ লাখ। ১৫ শতাংশ ধরলে তা প্রায় ৮.৪ লাখে পৌঁছায়।
অতএব, বিশ্লেষণভিত্তিক একটি বাস্তবসম্মত অনুমান হোল-পশ্চিমবঙ্গে ২১-৪০ বছর বয়সী মাধ্যমিক বা তদূর্ধ্ব শিক্ষাগত যোগ্যতা-সম্পন্ন বেকারের সংখ্যা সম্ভবত ৭ থেকে ৯ লাখের মধ্যে।
এখানে দুটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি।
প্রথমত, “বেকার” বলতে বোঝানো হচ্ছে যাঁরা সক্রিয়ভাবে কাজ খুঁজছেন কিন্তু কাজ পাচ্ছেন না। যাঁরা অস্থায়ী, অনিয়মিত বা কম মজুরির কাজে যুক্ত, তাঁরা এই সংখ্যার বাইরে।
দ্বিতীয়ত, প্রকৃত সংখ্যা কিছুটা ওঠানামা করতে পারে, কারণ শ্রমশক্তি অংশগ্রহণের হার ও বেকারত্বের হার গ্রাম-শহর ও লিঙ্গভেদে ভিন্ন।
সারসংক্ষেপে বলা যায়: ২১-৪০ বছর বয়সী মাধ্যমিক বা তদূর্ধ্ব শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা কয়েক লাখ নয়, আবার কয়েক কোটি নয়, বরং আনুমানিক ৭-৯ লাখের মধ্যে।