Home খবর ১২ ফেব্রুয়ারির রূপান্তরের নির্বাচনঃ আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার অর্জন

১২ ফেব্রুয়ারির রূপান্তরের নির্বাচনঃ আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার অর্জন

0 comments 135 views
A+A-
Reset

বাংলাস্ফিয়ার: ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের যাবতীয় দিক নিয়ে আলোচনার জন্যে এখনও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। কারণ সব কিছুর জন্যে সময় একটা বড় ফ্যাক্টর। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগের দিন ও রাতের যাবতীয় ঘটনা, নির্বাচনের দিনে হঠাৎ আধ ঘন্টায় দুই কোটি ভোট বেড়ে যাওয়া। ভোটের আগের থেকে আন্তর্জাতিক রাজনীতির বাঁক বদল এসব শোনার মতো মানসিকতা এ মুহূর্তে কারো তৈরি হবার কথা নয়। বেশি ভাগ মানুষ শুধু মনে করছে আমরা একটা কারাগার থেকে হয়তো মুক্তি পেলাম। তাই এখানে লোহার পর্দাগুলো ধীরে ধীরে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উন্মোচিত হবে।

 

তবে এই নির্বাচনের সব থেকে বড় দিক ছিল দেশের সব থেকে বড়, প্রাচীন ও দেশ-সৃষ্টিকারী রাজনৈতিক দলটিকে জোর করে নির্বাচন থেকে বাইরে রাখা। শুধু দলটিকে নির্বাচন থেকে বাইরে রাখা নয়, তাদের কোটি কোটি কর্মীকে পলাতক ও দুর্বিষহ জীবনযাপনে বাধ্য করা। হাজার হাজার পরিবারের বাড়ি ঘর পুড়িয়ে দিয়ে নির্বাক করে দেয়া। সর্বোপরি গত এক বছরে জেলখানায় নিহত হয়েছে আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতা ও কর্মী। সর্বশেষ ৭১ এর বীর মুক্তিযোদ্ধা রমেশ চন্দ্র সেন জেলখানায় শহীদ হলেন– নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে। আর তাকে যেভাবে জেলে নেওয়া হয়েছিল– তাকে বর্বরতা বললেও বর্বরতা শব্দের মান ওপরে উঠে যায়।

নির্বাচনের প্রচারের শুরুর আগের থেকে গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে এসব বলার একটা বৈধতা দেয়া হচ্ছিলো, এই বলে যে, ওই দলটি ফ্যাসিস্ট ও তাদের নেতা ফ্যাসিস্ট।

 

মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে ৫ আগস্টে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে অনেক গ্রাফিতি বিতরণ এদেশের মানুষ দেখেছে। শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে “ফ্যাসিস্ট” বয়ান তৈরির জন্য সরকারের অনুগত মিডিয়ার একাংশ যেমন কাজ করেছিলো, তেমনি বাদবাকি মিডিয়াকে বাধ্য করা হয়েছিলো।

তবে বাংলাদেশের রাজনীতির ন্যাচারাল অ্যালি বিএনপি ও জামায়াত দুই ভাগে ভাগ হয়ে নির্বাচনের মাঠে নামার পরেই বিএনপি ও তাদের আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মিত্ররা বুঝতে পারে নির্বাচনের মাঠ ও জনগনের বড় অংশ শেখ হাসিনার দখলে। মানুষের মুখে একটিই কথা “আগে ভালো ছিলাম”। অর্থাৎ শেখ হাসিনার আমলে ভালো ছিলাম।

এ কারণে দ্রুত দেখা গেলো, নির্বাচনের মাঠে অংশ নেওয়া সকল দলের মুখ থেকে “ফ্যাসিস্ট” শব্দ হারিয়ে গেলো। গত পনের মাস ধরে শেখ হাসিনার যে মুন্ডুপাত করা হয়েছে তা থেকে তারা একশ আশি ডিগ্রী সরে এলো। এমনকি বাক্যবাগীশ বামপন্থীরাও শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট বলা থেকে সরে এলো। যে পত্র পত্রিকাগুলো শেখ হাসিনার উন্নয়নে কত চুরি হয়েছে তা দেখানোর জন্য ৫ আগস্টের পরে উঠে পড়ে লেগেছিলো, তারাও শেখ হাসিনার খারাপ কাজের জন্যে বর্তমানে যারা নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে তাদেরকে ভোট দিতে হবে এমন একটি লাইন লেখার সাহস পেলো না। এমনকি নির্বাচনের মাঠে গিয়ে বড় বড় নেতারা শেখ হাসিনাকে “আপা” ডাকতে বাধ্য হলেন- মাঠের অবস্থা বুঝতে পেরে।

 

নির্বাচনের মাঠে কোন দল নতুন কোন উন্নয়নের কর্মসূচী দিতে পারলো না। কারণ, তারা যে এলাকায় গিয়ে যে উন্নয়নের কথা বলে তখন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ পায় এটা হয় শেখ হাসিনা ২০১২ সালে, না হয়, ২০১৬ সালে না হয় ২০১৭ সালে করে গেছেন। যে কারণে শেষ অবধি মানুষের জন্যে কোন উন্নয়নের পথ খুঁজে না পেয়ে গৃহপালিত পশুর জন্য উন্নয়নের কর্মসূচী উদ্বোধন করতে হয়। অবশ্য এটা ব্রিটিশ আমল থেকে এদেশে প্রতিটি থানায় আছে।

অন্যদিকে সরকার ধরে নিয়েছিলো, শেখ হাসিনার আমলে নির্বাচন ঠেকানোর জন্য তার বিরোধীরা যেমন পেট্রল বোমা মেরে শত শত মানুষ হত্যা থেকে শুরু করে বাস পোড়ানো, নির্বাচনের বুথ পোড়ানো এসব কাজ করেছিলো- ২০১৪তে তেমনিই আওয়ামী লীগ করবে। তাই পররাষ্ট্র উপদেষ্টা থেকে শুরু করে সকলেই বলা শুরু করলেন, নির্বাচনে যদি কোন সহিংসতা হয় তাহলে তার জন্যে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা দায়ী থাকবে।

শেষ অবধি দেখা গেলো আওয়ামী লীগ আদৌ সরকারের ওই ফাঁদে পা দেয়নি। তারা অনেক পুরানো গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক সংগ্রামী দল। তাই তারা এই ফাঁদ চেনে। তারা তাদের কাজের ভিতর দিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছে, আওয়ামী লীগ নির্বাচন বিরোধী ও গণতন্ত্র বিরোধী কোন সহিংস জঙ্গী সংগঠন নয়, পেট্রল বোমা দিয়ে মানুষ হত্যাকারী কোন দল নয়।

এ কারণে ওই সহিংসতার বিপরীতে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ দেখিয়েছে তার রাজনৈতিক শক্তি অর্থাৎ মানুষের শক্তি। আওয়ামী লীগ সমর্থক ও কর্মীরা বাস্তবে গত ১৮ মাস সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কারাগারে। যাকে বলা যায় তারা সকলে কোন না কোন ভাবে বন্দী দশায় আছে।

 

কিন্তু তারপরেও তারা যে রাজনৈতিক শক্তি হারায়নি তার প্রমাণ দিলো নির্বাচনে ভোট দিতে না গিয়ে। তাদের প্রতীক নেই বলে তারা ভোট দিতে যায়নি। তাদের প্রতীক ব্যালটে নেই, তাদের দল নির্বাচনে নেই বেলে তারা যে ভোট দিতে যাবে না–এ প্রচার তারা কোন মেইনস্ট্রিম মিডিয়াতেও করার সুযোগ পায়নি।

সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে খুবই সাধারণভাবে তাদের কর্মী ও সমর্থকদের প্রতি এ নির্দেশনা গিয়েছিলো।

আর তাতেই দেখা গেলো, আওয়ামী লীগের কর্মীরা নানাভাবে ভোট দেয়া থেকে দূরে থেকে থেকেছে। তাদের কর্মী ও সমর্থকরা বেশিভাগ ভোট কেন্দ্রে যায়নি। এমনকি জেল, জুলম ও প্রাণ বাঁচানোর জন্যে অনেকে কেন্দ্রে এসে ভিন্ন দলের প্রতীক গলায় ঝুলিয়ে সারাদিন ঘোরাঘুরি করে গেলেও তারা ব্যালেটে সিল না দেয়ারই চেষ্টা করেছে।

আর তাদের চেষ্টা যে সফল হয়েছে তার প্রথম প্রমাণ আধ ঘন্টায় দুই কোটি অস্বাভাবিক ভোট যোগ করতে হয়েছে নির্বাচনে ভোটের হার বাড়ানোর জন্যে।

বাদবাকি ভবিষ্যতে আরও যা বের হয় বা না হয় তা নিয়ে আওয়ামী লীগ যে খুব মাথা ঘামাবে তা নয়। কারণ, তাদের যা প্রয়োজন ছিলো তারা সেটা এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অর্জন করেছে। অর্থাৎ তাদের যে সর্বনিম্ন হলে ৪০% ভোট এদেশে–সেটা তাদের ইনট্যাক্ট আছে। নানান চাপে, এমনকি তাদের ভবিষ্যত রাজনীতির প্রয়োজনে তার থেকে খুব সামান্য অংশ ভোট তারা দিয়েছে এবং সেটা যে কতটা ক্যালকুলেটিভ তাও ভবিষ্যতের রাজনীতির খেলায় হয়তো উন্মোচিত হবে।

 

তাই মোটা দাগে আওয়ামী লীগ ৫ আগস্ট ইউনুসের মেটিকুলাস ডিজাইনের কাছে হেরে যাবার পরে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নিজের শক্তিকে প্রকাশ করার সুযোগ পেলো– এবং যারা রাজনীতি বোঝেন তারাও বুঝতে পারলো– আওয়ামী লীগ কত দ্রুত রাজনীতিতে ফিরবে এবং নিজের পায়ে দাঁড়াবে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগারাও বুঝতে পারলো, এই কঠিন সময়ে তাদের নিজেদের কতগুলো পা আছে এবং সেই পায়ের বল বাড়ানো কতটা প্রয়োজনীয়। এবং এ সময় নিজের পা ছাড়া অন্য কোন পায়ের ওপর ভরসা করতে নেই। সেটাও তারা প্রমাণ করেছে।

বাস্তবে বাংলাদেশের একটি ফেজ থেকে আরেকটি ফেজের এই রূপান্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তাদের প্রত্যাশার থেকেও বেশি না পেলেও মোটেই কম অর্জন করেনি।

Author

You may also like

Leave a Comment

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles