বাংলাস্ফিয়ার: ২০২৬ সালের শীতকালীন অলিম্পিক শুরু হতে চলেছে ইতালির মিলানো–কর্তিনায়, আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি। তার আগেই দেশজুড়ে বিক্ষোভের ঢেউ উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) আধিকারিকদের উপস্থিতির খবরে।
মিলানের পিয়াজা XXV এপ্রিল-এ শত শত মানুষ জমায়েত হন। এই চত্বরটির নামকরণ ১৯৪৫ সালে ইতালির নাৎসি ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তির স্মরণে। হাতে প্ল্যাকার্ড, মুখে স্লোগান—প্রতিবাদে সরব হন সাধারণ মানুষ। অনেক পোস্টার সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়, যেখানে প্রতিবাদী বার্তা মিশে যায় রসিকতায়। যেমন-“পিজ্জায় আনারস নয়। দুপুরে ক্যাপুচিনো নয়। ICE-ও নয়।”
আরেকটি পোস্টারে লেখা ছিল, “স্প্রিৎসে বরফ? হ্যাঁ। আমাদের রাস্তায় ICE? না, ধন্যবাদ!”
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, অলিম্পিক হওয়া উচিত শান্তি, ঐক্য ও সৌহার্দ্যের প্রতীক। সেখানে কোনও দেশের অভিবাসন সংস্থার উপস্থিতি সেই ভাবনাকেই আঘাত করে। এই প্রতিবাদ শুধু মিলানে সীমাবদ্ধ ছিল না। রোমসহ একাধিক শহরেও ICE-এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মানুষ।
ইতালির বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলে। লোম্বার্দি অঞ্চলের এক বৈঠকে বিরোধী বিধায়কেরা “ICE? NO, GRAZIE!” লেখা প্ল্যাকার্ড দেখান। অনেকেই দাবি করেন, ICE আধিকারিকদের ইতালিতে ঢুকতেই দেওয়া উচিত নয়। মিলানের মেয়র জিউসেপ্পে সালাও বলেন, তাঁর শহরে ICE স্বাগত নয়।

চাপের মুখে ইতালি সরকার বিষয়টি পরিষ্কার করার চেষ্টা করে। বিদেশমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি জানান, ICE আধিকারিকরা থাকলেও তাঁরা শুধু ইতালির পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ের কাজে যুক্ত থাকবেন, কোনও অভিবাসন সংক্রান্ত অভিযান চালাবেন না। নিরাপত্তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব থাকবে ইতালির হাতেই।
তবুও বিক্ষোভ থামেনি। সামাজিক মাধ্যমেও প্রশ্ন উঠছে—একটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় কেন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংস্থার ভূমিকা থাকবে? অলিম্পিক শুরুর আগে এই বিতর্কে শেষ পর্যন্ত কোনও পরিবর্তন আসে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব।