বাংলাস্ফিয়ার: পাট্টা হোল্ডারদের মেছোভেড়ি দখলকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে হাড়োয়ায়। খাসবালান্দা পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী তথা ব্লক যুব তৃণমূলের সহ-সভাপতি মিলন মোল্লার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ভেড়ি দখল, মারধর করা, হুমকি দেওয়ার ও এলাকায় বোমাবাজি করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাড়োয়া পঞ্চায়েতের গোবেড়িয়া আবাদ অঞ্চলের হাঁড়িভাঙা এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। পাট্টা হোল্ডারদের দাবি, নতুন করে চুক্তি না করে এবং প্রাপ্য লিজের টাকা না দিয়েই ভেড়িতে নোনা জল ঢুকিয়ে দখল নিয়েছেন ওই তৃণমূল নেতা। এই নিয়ে বিডিও দপ্তরে এবং থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি বলে কৃষকদের অভিযোগ। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে ভেড়ি ফিরিয়ে দিতে হবে যাতে তাঁরা সমবায় বা কো-অপারেটিভ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে পারেন।
প্রতিবাদ করলেই জুটছে মারধর ও হুমকি। এমনকি রাতে এলাকায় বোমাবাজি করার অভিযোগও উঠেছে মিলনের বিরুদ্ধে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা। তাঁর দাবি, দলীয় নেতৃত্বের নির্দেশে তিনি ৪২০ জন পাট্টা হোল্ডারদের ১২০ বিঘা মাছের ভেড়ি ন্যায্য লিজ দিয়েই চাষ করে আসছেন। উল্টে নিজেকে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দের শিকার বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে অভিযুক্ত নেতার এই দাবি উড়িয়ে চাষীদের পাশেই দাঁড়িয়েছেন অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি সিরাজুল ইসলাম। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, দলে কোনো গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই। মিলন মোল্লা দলের নাম ভাঙিয়ে ও পদের অপব্যবহার করে গরিব চাষীদের জমি জোর করে দখল করেছেন এবং এলাকায় রাহাজানি চালাচ্ছেন।
তৃণমূল নেতার এই মেছোভেড়ি দখল নিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে হাড়োয়া জুড়ে। এই ঘটনায় সরব হয়েছে বামেরাও। সারা ভারত কৃষক সভার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সদস্য ইমতিয়াজ হোসেনের দাবি, তৃণমূল জোতদার ও জমিদারদের সরকার। তারা কৃষকদের ও পাট্টা হোল্ডারদের ন্যায্য অধিকার কেড়ে নিয়েছে। সব মিলিয়ে ভেড়ি দখলকে কেন্দ্র করে শাসকের অন্দরের কোন্দল ও বিরোধীদের আক্রমণে উত্তপ্ত হাড়োয়ার রাজনীতি।