বাংলাস্ফিয়ার: আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনায় তদন্তে বড়সড় অগ্রগতি। এই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ‘ওয়াও মোমো’ সংস্থার ম্যানেজার ও ডেপুটি ম্যানেজারকে শুক্রবার বারুইপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের ৬ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। আগুন কীভাবে লাগল, কোথায় গাফিলতি ছিল—এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই পুলিশ এই হেফাজত চেয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নরেন্দ্রপুর এলাকা থেকে ধরা হয় সংস্থার ম্যানেজার মনোরঞ্জন সিট ও ডেপুটি ম্যানেজার রাজা চক্রবর্তীকে। শুক্রবার আদালতে তদন্তকারী অফিসাররা জানান, কারখানার ভেতরের অবস্থা, অগ্নি-নিরাপত্তার ব্যবস্থা এবং ঘটনার দিনের পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত সংস্থার আইনজীবী তানিস হক আদালতে বলেন, আগুন তাঁদের কারখানা থেকে নয়, পাশের একটি ডেকোরেটর গোডাউন থেকে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর দাবি, ওই গোডাউনেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে—পঙ্কজ হালদার, বাসুদেব হালদার এবং এক নিরাপত্তারক্ষীর। তাঁর কথায়, “আমাদের কারখানায় দেশলাই পর্যন্ত জ্বালানো হয় না। শুধু শুকনো জিনিস রাখা হয়। আগুন নেভানোর জন্য ৩৩টা ফায়ার এক্সটিংগুইশার ছিল।”
প্রতিরক্ষা পক্ষ আরও জানায়, ঘটনার দিন যারা সেখানে ছিলেন, তাঁদের বয়ান আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার আবেদনও জানানো হয়েছে। তাঁদের দাবি, সংস্থা তদন্তে পুরোপুরি সহযোগিতা করছে এবং মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়েছে। আইনজীবীর আরও অভিযোগ, যারা অভিযোগ দায়ের করেছেন, তাঁদেরই গ্রেফতার করা হয়েছে, অথচ সংস্থার কাউকে ধরা হয়নি।
তবে সরকারি আইনজীবী সামিউল হক এই দাবি মানতে চাননি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “সেখানে দাহ্য জিনিস কীভাবে মজুত ছিল? দায় কি এত সহজে এড়ানো যায়?” তিনি জানান, আগুন লাগার আসল কারণ কী এবং ভেতরে কী ধরনের জিনিস ছিল—সবই এখন তদন্ত চলছে। ফরেন্সিক ও ইলেকট্রিক্যাল রিপোর্ট এখনও আসেনি।
প্রায় এক ঘণ্টার শুনানির পর বিচারক দুই অভিযুক্তকে ৬ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তদন্ত এগোচ্ছে, আর সবার নজর এখন সেই দিকেই।