বাংলাস্ফিয়ার: মর্মান্তিক ঘটনা! ভাড়ার পুরো টাকা না মেটাতে পারায় খুঁটিতে বেঁধে প্রকাশ্যে মারধর করা হয়েছে দরিদ্র ভাড়াটিয়াকে। তেমনটাই অভিযোগ উঠেছে এক বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে। অপমান সহ্য না করতে পেরে নিজেকে শেষ করে দেন অত্যাচারিত ওই ভাড়াটিয়া। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ধূপগুড়ি পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের দেশবন্ধু পাড়া এলাকায়।
মৃতের নাম ঝন্টু দাস। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় টোটো চালানোর পাশাপাশি পেশাগতভাবে বাজনা বাজাতেন তিনি। মাস দেড়েক ওই এলাকার অমর নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে ভাড়া থাকতেন তিনি। মাসিক ভাড়া ছিল পাঁচ হাজার টাকা। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার চার হাজার টাকা বাড়িওয়ালার হাতে তুলে দেন ঝন্টু। বাকি এক হাজার টাকা তিনি পরে দেবেন বলে জানান বাড়িওয়ালকে। কিন্তু তাঁর কোনও কথাই যেন শুনতে চায় না বাড়িওয়ালা।
ঝন্টুর পরিবারের অভিযোগ, পুরো ভাড়া না পাওয়ার রাগে ঝন্টুকে অমানবিকভাবে মারধর করেন বাড়িওয়ালা। যার জেরে চরম অপমানিত বোধ করেন ঝন্টু এবং নিজেকে শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আর তাতেই সফল হন তিনি।
খবর মিলেছে, ঝন্টুকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে সর্বপ্রথম ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তারপর তাঁকে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতেই সেখানকার ডাক্তাররা ঝন্টুকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। শুক্রবার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। মৃত্যুর খবর পেয়ে অভিযুক্ত বাড়িরওয়ালা পালিয়ে গেছেন বলে খবর। খবর পেতেই ধূপগুড়ি থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। মৃতের পরিবারের সদস্যদের লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
মৃতের ছেলে সৌরভ দাস দোষীর কঠোর শাস্তি চেয়ে বলেন, “এক হাজার টাকার জন্য বাবাকে খুঁটিতে বেঁধে মারধর করা হয়। সেই অপমান সহ্য করতে না পেরে বাবা আত্মহত্যা করেছেন। আমরা দোষীর কঠোর শাস্তি চাই।” প্রতিবেশী অভিজিৎ সাহা মৃতের ছেলের বক্তব্যে সহমত জানান।
পরিবারের সদস্যদের আরও দাবি, তাঁর পকেট থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে। যদিও নোটের সত্যতা এখনও যাচাই করা হয়নি।