বাংলাস্ফিয়ার:২৬২ বছরে পা দিল রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের প্রতিষ্ঠিত এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শিবমন্দির। সেই প্রতিষ্ঠা দিবস স্মরণে ভৈমী একাদশী তিথিতে নদীয়ার শিবনিবাসে বসেছে ঐতিহ্যবাহী বিশাল মেলা। কথিত আছে, মারাঠা বর্গীদের হাত থেকে পরিবারকে রক্ষা করতে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাঁর কুলপুরোহিত ব্রজেশ্বর মিশ্রের পরামর্শ নেন। পুরোহিত নিদান দেন, বর্গীয় দস্যু নসরাত খাঁ শৈব ধর্মাবলম্বী হওয়ায় শিবের ওপর আঘাত আনবেন না। এরপরই বারাণসী থেকে কষ্টিপাথর আনিয়ে রাজা প্রতিষ্ঠা করেন ‘রাজরাজেশ্বর’ শিবলিঙ্গ। সেই ঐতিহাসিক ভৈমী একাদশী তিথি থেকেই এই মেলার শুরু, যা চলবে আসন্ন শিবরাত্রি পর্যন্ত।
এই মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো ‘মাইলোর খই’। মেলায় আসা ভক্তরা পুজো দিয়ে প্রসাদ হিসেবে এই খই বাড়ি নিয়ে যান। শিবনিবাস গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলায় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ভক্তদের ঢল নামে। মেলার এক বিশেষ রীতি অনুযায়ী, সধবা ও বিধবা মহিলারা রাম-সীতার কাছে অর্ঘ্য নিবেদন করেন। সধবা মহিলারা চিরকাল সধবা থাকার এবং বিধবা মহিলারা আগামী জন্মে বৈধব্য এড়ানোর প্রার্থনা করেন।
মেলা প্রাঙ্গণে অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশ কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। পুরো এলাকা মুড়ে ফেলা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরায়। ভিড় সামলাতে পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে মোতায়েন করা হয়েছে প্রচুর স্বেচ্ছাসেবক। এরই মাঝে পুলিশের মানবিক ছবি ধরা পড়েছে ক্যামেরায়; চলার ক্ষমতা হারানো বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের মন্দিরে ওঠানো-নামানো থেকে শুরু করে শিবলিঙ্গে জল ঢালতে সাহায্য করতে দেখা গিয়েছে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের।