বাংলাস্ফিয়ার: শীতের রাতের অনুষ্ঠান ঘিরে এখন তপ্ত উত্তর চব্বিশ পরগনার বনগাঁ। রবিবার নয়াগোপালগঞ্জের যুবক সংঘের পরিচালনায় একটি বাৎসরিক জলসার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে আমন্ত্রিত শিল্পী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী তথা প্রাক্তন সাংসদ মিমি চক্রবর্তী। সেই অনুষ্ঠানে এসে চরম হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। এই মর্মেই সরব হয়ে অনুষ্ঠান সেরে ফেরার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন অভিনেত্রী। ইঙ্গিত দেন ওই অনুষ্ঠানে তাঁকে চরম অপমানের সম্মুখীন হতে হয়েছে। গোটা ঘটনার কথা নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করেছেন। তাঁর কথায়, বনগাঁ থানায় তিনি হেনস্থার অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। অভিযোগের তালিকায় নাম উঠে এসেছে তনয় শাস্ত্রী নামক এক জ্যোতিষীর। এই বিষয় নিয়ে পুলিশ মুখ খুলতে অস্বীকার করলেও, ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে মিমি চক্রবর্তী স্পষ্ট জানিয়েছেন, মঞ্চে অসম্মান কখনই বরদাস্ত নয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিমেষে চাঞ্চল্য ছড়ায় তাঁর অনুরাগীদের মধ্যে।
যদিও সেই অভিযোগ সপাটে উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা সুর চড়িয়েছে আয়োজক ক্লাব ‘যুবক সংঘ’। ক্লাবের সদস্যরা মিমির অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে দাগিয়ে দিয়েছেন। তাদের অভিযোগের তির পাল্টা মিমির দিকেই। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিনেত্রী নির্দিষ্ট সময়ের প্রায় ঘন্টাখানেক পরে অনুষ্ঠানে আসেন। মঞ্চে উঠে গান ধরেন। সামনেই ছাত্র-ছাত্রীদের বোর্ডের পরীক্ষা। রাত বারোটা পর্যন্তই মাইক বাজানোর অনুমতি ছিল। সময় ফুরিয়ে যাওয়াতে নিয়ম মেনেই অনুষ্ঠান বন্ধ করতে বলা হয়। এতে অপমানের কিছু নেই। তাদের দাবি, হেনস্থা তো দুরস্থান, মিমির নিরাপত্তারক্ষীরা মঞ্চে থাকা গ্রামের সাধারণ মহিলাদের গায়ে হাত দিয়ে ধাক্কা মেরে নামিয়ে দিয়েছেন। বনগাঁর এই অনুষ্ঠানে এখন বিনোদনের গন্ডি ছাড়িয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক তর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। অভিনেত্রীর অভিযোগ বনাম ক্লাবের পাল্টা চ্যালেঞ্জে সরগরম নয়াগোপালগঞ্জ এলাকা।