বাংলাস্ফিয়ার: সাহিত্যচর্চায় পদ্মশ্রী সম্মান পেলেন মালদার ইংরেজবাজারের নিবাসী অশোক কুমার হালদার। রেল গার্ডের পদে কর্মরত ছিলেন তিনি। ২০১৯ সালে অবসার নিয়েছেন। তাঁর কথায়, মালগাড়ির একাকিত্ব জীবনে পাহাড় পর্বত প্রকৃতিকে কাছ থেকে দেখে বই লেখা শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ ৩০বছর ধরে এই লেখালেখির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
অশোক বাবুর এই পুরুস্কার প্রাপ্তির খবরে খুশি তাঁর গোটা পরিবার।পরিবারের রয়েছেন, স্ত্রী ইলা হালদার, বড় ছেলে, অমিত হালদার ও ছোট ছেলে কিংকর হালদার। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, স্কুল জীবন শুরু হয় লাল গোলা এম. এন একাডেমি থেকে। ১৯৮৫ সালে বহরমপুর কে.এন কলেজ থেকে বিএসসি পাশ করেন তিনি। তারপরের বছরই তিনি রেলে মাল গাড়ির গার্ড হিসাবে যোগাদান করেন। চাকরির সুবাদে প্রায়ই বিহার ও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত যাতায়াত করতে হত তাঁকে। সেইসময় কোচে থেকে পাহাড় , পর্বত , গাছ জঙ্গল দেখে লেখালেখির জন্য চিন্তাভাবনা শুরু করেন অশোক বাবু।
এই রাজ্য সহ ত্রিপুরার বিভিন্ন পত্রিকায় তাঁর লেখা আড়াইহাজারের বেশি আর্টিকেল বেরিয়েছে। ইংরেজি ও বাংলা মিলিয়ে মোট ১৩ টি বই লিখেছেন তিনি। ইংরেজিতে রয়েছে, ৮ টি বই। বাংলায় রয়েছে ৫ টি বই। এর আগে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়কে তিনি তাঁর লেখা বই পাঠিয়েছিলেন। প্রণব মুখোপাধ্যায় তাঁকে রাষ্ট্রপতি ভবনে ডেকেছিলেন। উৎসাহ পেয়ে আরও লেখালেখি শুরু করেন তিনি।
২০১৭ সালে অশোক বাবুর একটি বই প্রকাশিত হয়। বইটির নাম ‘The Radical Change of Human Society and with Scientific Observation’। গত বছর ২৭ জুলাই এই বইটির কথা জানিয়ে তাঁর স্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকারের পদ্মশ্রী পুরস্কারের জন্য অশোক বাবুর নাম আবেদন করেন। সেই আবেদন অনুযায়ী এবার তাঁর নাম পদ্মশ্রীর জন্য ঘোষণা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি তাঁর বইটি নিয়ে তৎকালীন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।