বাংলাস্ফিয়ার: নামটা বেকহ্যাম—এটাই যেথষ্ট। এই একটি নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ফুটবল, ফ্যাশন, গ্লোবাল সেলিব্রিটি , বিজ্ঞাপন,
ব্র্যান্ড, আর এক নিখুঁতভাবে নির্মিত পারিবারিক ছবি । বছেরর পর বছর ধের যে পরিবারটিকে বিশ্ব দেখেছে নিখুঁত গ্লেসর ফ্রেম, সেই
ফ্রেম ভেঙ বেরেয় এল এক অস্বস্তিকর, ব্যক্তিগত, এবং বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি। ডেভিড ভিক্টোরিয়া বেকহ্যােমর জ্যেষ্ঠ পুত্র ব্রুকিলন পেল্টজ বেকহ্যাম অবেশেষ নীরবতা ভাঙেলন, কোনও সাক্ষাৎকাের নয়, কোনও ম্যাগািজন কভােরে নয়। সরাসরি নিজর ইনস্টাগ্রাম পোস্টে। আর সেখানে তিনি শুধু পারিবারিক বিরোধের কথা বলেলন না; তিনি প্রশ্ন তুলেলন একটি গোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে, যেখানে পরিবার মানে আবেগ নয়, বরং এক সুপিরকল্পিত ‘ব্র্যান্ড’।

ব্রুকিলন িলখেছন,তিনি বহু বছর ধের চুপ করেছিলেন । চেষ্টা করেছিলেন সবিকছু ব্যক্তিগত রাখার। কিন্তু তাঁর দাবি, সেই
নীরবতাকে সম্মান করা হয়নি । বরং তাঁর বাবা–মা এবং তাঁদের টিম ধারাবািহকভাবে সংবাদমাধ্যেম নিজেদর মতো করে গল্প সাজিয়ে গেছেন। শেষপর্যন্ত তাঁকে নিজেকেই সামেন আসেত হেয়েছ,“নিজের হয়ে কথা বলেত, আর ছাপা হওয়া অন্তত কিছু মিথ্যাকে বেআব্রু করতে।”
এই বক্তব্যে সবেচেয় বিস্ফোরক লাইনটি হল তিনি আর তাঁর পরিবার সঙ্গে সম্পর্ক জোড়া লাগােত চান না।তিনি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছেন না, বরং জীবেন প্রথমবার নিজের জন্য দাঁড়াচ্ছেন। এই ‘নিয়ন্ত্রণ’-এর কথাটা ব্রুকিলন বারবার টানেন । তাঁর ভাষায়, ছোটেবলা থেকেই সংবাদমাধ্যম পরিবারের ন্যারটিভকে নিয়ন্ত্রণ করে, কী ছবি দেখানো হবে , কোন সম্পর্ক কতটা প্রকাশ্য হবে, সবকিছুই ঠিক করা হতো উপর থেকে। সোশ্যাল মিডয়ার ঝকঝেক পোস্ট, পারিবারিক অনুষ্ঠান, ক্যামেরার সামেন করা সবই ছিল এক ধরেনর অভিনয়। একটি জীবন যেখানে সত্যিকারের সম্পর্কের জায়গা ক্রমশ সঙ্কুিচত হয়ে গিয়েছিল।
এই চাপ সবেচেয় তীব্র হয়ে ওঠে তাঁর বিয়ের সময়। নিকোলা পেল্টজ—আমেরিকার ধনী পেল্টজ পরিবারের কন্যা—২০২২ সালে ব্রুকিলনেকে বিয়ে করেন। বাইরে থেকে যে বিয়ে ছিল রূপকথার মতো, ভিতেরে নাকি তা ছিল টানাপোেড়ন আর সংঘােতর মঞ্চ।
ব্রুকিলেনর অভিযোগ, তাঁর মা শেষ মুহূর্তে নিকোলার বিয়ের পোশাক বানানো বাতিল কের দেন, যে পোশাকটি পরে নিকোলা
উন্মুখ হয়েছিলেন। বিয়ের ঠিক আগে তাঁকে নতুন পোশােকর ব্যবস্থা করেত হয়। আরও গুরুতর অভিযোগ,বিয়ের কয়েক সপ্তাহ
আগে তাঁকে বারবার চাপ দেওয়া হয় পারিবারিক বিষয় আশেয় তাঁর যে অধিকার তা ছেড়ে দিতে। শুধু চাপ নয়, তাঁর ভাষায়, ঘুষের
চেষ্টাও হয়েছিল । কারণ বিয়ের আগে সই হলেই সেই চুক্তির শর্ত কার্যকর হতো। তিনি সই না করায় আর্থিক স্বার্থে আঘাত লাগে
এবং তারপর থেকেই আচরণ বদেল যায়।
বিয়ের আয়োজেনও অস্বস্তি থামেনি। ব্রুকিলন জানান,তিনি ও নিকোলা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলন তাঁদের টেবিলে দু’জন ন্যািনেক বসাবেন , যাঁদের দু’জেনরই স্বামী তখন জীবিত ছিলেন না। অথচ এই সিদ্ধান্তে তাঁর মা এতটাই ক্ষুব্ধ হন যে তাঁকে ‘evil’ বলেতও দ্বিধা করেনি ।
এরপর আসে আরও অস্বস্তিকর অভিযোগ , বিয়ের প্রথম নাচ। ব্রুকিলেনর দাবি, তাঁর মা সেই নাচ ‘হাইজ্যাক’ করেন এবং অতিথেদর সামেন তাঁর সঙ্গে এমনভােব নাচেন, যা তাঁকে চরম অস্বস্তি আর অপমােনর মধ্যে ফেল। তাঁর ভাষায়, জীবেন কখনও তিনি এতটা হেয় অনুভব করেনি ।
এই টানাপোেড়ন শুধু দম্পিতর মধ্যেই সীমাবদ্ধ িছল না। ব্রুকিলন বলেন, তাঁর স্ত্রীকে বারবার অসম্মান করা হয়েছে। এমনিক তাঁর বাবার ৫০তম জন্মিদেনর অনুষ্ঠােন িনকোলােক আমন্ত্রণই জানানো হয়িন।তিনি আরও দাবি করেন, পরিবারের ভিতেরর এই সংঘাত সংবাদমাধ্যেম ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য তাঁ র বাবা–মায়ের িনর্দেশই তাঁকে আক্রমণ করা হেয়েছে, ব্যক্তিগতভােব ও প্রকাশ্যে। এমনিক তাঁ র ভাইেদরও সোশ্যাল মিডয়ায় তাঁ র িবরুদ্ধে কথা বলেত উৎসাহ দেওয়া হয়েছিল, পরে তারা হঠাৎ কেরই তাঁকে ব্লক করে দেয়। এই সব ঘটনার কেন্দ্রে, ব্রুকিলেনর মতে রয়েছে, একটাই বিষয়— ‘ব্র্যান্ড বেকহ্যাম’। তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট: তাঁর পরিবার সবিকছুর ওপের জনসমক্ষে প্রচার, ব্র্যান্ড এন্ডোর্সেমন্ট, আর নিখুঁত ইমেজ ছাড়া অন্য কিছু ভাবেতই পারেনা। ভালোবাসা যেখানে শর্তসাপক্ষ, আপনি কটা পোস্ট করেছন, কত দ্রুত সব ফেলে রেখে ক্যামেরার সামেন এসে দাঁড়াচ্ছেন, তা দিয়ে নাকি সম্পর্কের মূল্য নির্ধািরত হয়।
সবেচেয় ব্যক্তিগত স্বীকারোক্তিটি আসে শেষে। ব্রুকিলন বলেন, তিনি চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে বড় হেয়েছন। অথচ পরিবারের থেকে সরে আসার পর জীবেন প্রথমবার সেই উৎকণ্ঠা কমেছে। এখন তিনি সকােল ঘুম থেেক ওঠেন কৃতজ্ঞতা নিয়ে যে অবেশেষ
তিনি নিজের জীবন যাপন করেত পারেছন। তাঁর আর নিকোলার চাওয়া খুব সাধারণ: ইমেজ আর প্রেসের বাইের একটি শান্ত,
ব্যক্তিগত জীবন। এটি কেবল এক সেলিব্রিটি পরিবারের ভাঙেনর গল্প নয়। এটি ক্ষমতা, নিয়ন্ত্রণ, ব্র্যান্ড আর ব্যক্তিসত্তার সংঘর্ষের গল্প। যেখানে এক সন্তান প্রশ্ন তুলেছ—পরিবার কি সত্যিই পরিবার থাকে, যখন তানিজেই একটি কর্পোরেট কাঠামো হয়ে ওঠে? ডেভিড ওভিক্তোরিয়া বেকহ্যাম এ বিষেয় এখনও কোনও মন্তব্য করে নি।